আমাদের সংগীতের উচ্চাঙ্গ ও লোকজধারা বিস্তৃত হয়েছে নানা কালে, নানা মাত্রায়। অন্যের মনে নিবিষ্ট করে দেয়ার সংগীতের এই মোহিনী প্রয়াস অর্ধশত কাল এ কলেজে
অনুশীলিত হয়ে আসছে ভর্তি হতে চাইলে—
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক (আই.মিউজ) এবং স্নাতক (বি.মিউজ) শ্রেণিতে ভর্তির সময় কণ্ঠ যাচাই করা হয়।
একসময় সংগীত ছিলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তখন রাজ পরিবারের লোকদের সংগীত শিক্ষা দেয়া হতো। রাজা মহারাজারা ওস্তাদদের আর্থিক দায়ভার নিতেন। তখন রেডিও, গ্রামোফোন ছিলো না। কোন সংগীত সম্মেলনও হতো না। কতিপয় ভাগ্যবান সংগীত শুনতে পেত এবং উপলব্দি করতে পারতো। দিন বদলেছে। এখন সাধারণরাও পারছে সংগীত শুনতে এবং উপলব্ধি করতে।
দেশের একমাত্র সরকারি সংগীত কলেজ। ১৯৬৩ থেকে ২০১৩। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা আনন্দ-বেদনার উঁচুনিচু বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা প্রদানের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ সরকারি সংগীত কলেজ। নানা অর্থেই একটি ব্যতিক্রমি, ঐতিহ্যবাহী ও আলোকিত প্রতিষ্ঠান। এই সুর নিকেতন থেকে থেকে দীক্ষা নিয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। সুরের আলো নিয়ে তারা আজ ছড়িয়ে আছে দেশের সংগীত জগতের সকল ক্ষেত্রে। দেশে শুদ্ধ সংগীত চর্চা, প্রসার ও শিক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা পারভীন বলেন, ‘গীত, বাদ্য ও নৃত্যের সমন্বয়ে সংগীত।’ আমাদের সংগীতের উচ্চাঙ্গ ও লোকজধারা বিস্তৃত হয়েছে নানা কালে, নানা মাত্রায়। অন্যের মনে নিবিষ্ট করে দেয়ার সংগীতের এই মোহিনী প্রয়াস অর্ধশত কাল এ কলেজে অনুশীলিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্যের সঙ্গে কর্মরত আছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ছায়ানট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং সংগীত কলেজগুলোতে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। শাহনাজ রহমতুল্লাহ, আবিদা সুলতানা, ইয়াকুব আলী খান, মনির হোসেন, রেজোয়ান, সাজু আহমেদ, শেখ জসীম, ড. প্রদীপ কুমার নন্দী, মোহাম্মদ সোয়েব, লীনা তাপসী খান প্রমুখ এখানকার শিক্ষার্থী ছিলেন।
শিক্ষা কার্যক্রম: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড ঢাকার পাঠ স্বীকৃতক্রমে দুই বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক আই.মিউজ বা আই.এ। আই.মিউজের আবশ্যিক বিষয়— বাংলা, ইংরেজি ও উচ্চাংগ সংগীত। নৈর্বাচনিক বিষয়— ইতিহাস, অর্থনীতি ও পৌরনীতি। সংগীত বিষয়— লোকসংগীত, নজরুল সংগীত ও রবীন্দ্র সংগীত। আই.এতে আই.মিউজের আবশ্যিক উচ্চাংগ সংগীত বাদে সব বিষয় আছে। এছাড়া রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত তিন বছর মেয়াদী ‘ব্যাচেলর অব মিউজিক’ এবং দুই বছর মেয়াদী ‘মাস্টার্স অব মিউজিক’।
গ্রন্থাগার: সরকারি সংগীত কলেজ গ্রন্থাগারে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রায় দশ সহস্রাধিক বই ও সাময়িকী রয়েছে। বিশেষত সংগীত বিষয়ের উপর বিভিন্ন মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ এ পাঠাগারটিকে বিশিষ্টতা দিয়েছে। এছাড়া এটির অডিও সেকশনে বিভিন্ন ধারা ও বিভিন্ন শিল্পীর গানের সিডি রয়েছে।
