সব তরুণেরা রাজা আবার ওরাই ওদের রাজ্যের প্রজা। হল হলো ছাত্রজীবনে অবাধ স্বাধীনতার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতার সাগর আর হলগুলো হলো ঐ সাগরে ভেসে বেড়ানো বিশাল পালতোলা জাহাজ। যার পালে শুধু স্বাধীনতারই হাওয়া লাগে
জীবন হলো স্বল্প সময়ের অফুরন্ত হাতছানি। এ অফুরন্ত হাতছানির দিকে ছুটে যেতে সাহস করে একমাত্র তরুণেরা। এখান থেকেই শুরু হয় তারুণ্যের জয়গান। তারুণ্যের রাজ্যে ওরা যেন রাজা সেজে পাকাপোক্তভাবে সিংহাসনে বসে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন সেই অফুরন্ত হাতছানির মধ্যে একটি। এখানে সব তরুণেরা রাজা আবার ওরাই ওদের রাজ্যের প্রজা। হল হলো ছাত্রজীবনে অবাধ স্বাধীনতার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতার সাগর আর হলগুলো হলো ঐ সাগরে ভেসে বেড়ানো বিশাল পালতোলা জাহাজ। যার পালে শুধু স্বাধীনতারই হাওয়া লাগে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সে রকম একটা স্বাধীনতার ফুয়েল দিয়ে চলা জাহাজ। এখানে নেই মা-বাবার কোমল অনুশাসন। নেই সীমাবদ্ধ সময়ের সাক্ষাত্ নিয়ে চলার ভয়। আছে সব আচরণের-সাংস্কৃতিক মানুষের সাথে চলার অভিজ্ঞতাপূর্ণ আনন্দ। পাওয়া না পাওয়ার মাঝে অবস্থান এ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুসাইব জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন মানেই হল জীবন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম বলেন, ‘একাধিক কক্ষ সাথীর সাথে থাকতে হয়। ভিন্ন আচরণের ভিন্ন মানুষের সাথে মিশে তৈরি হয় একটা আলাদা আন্তরিকতাপূর্ণ আচরণ। হালকা থেকে চলে যাওয়া যায় জীবনের গহীনে।’ সবাই যেন এক জাহাজের নাবিক।
বাড়ির বাইরে এ আর-একটা সংসার। নিজেরা মাঝে মধ্যে রান্না করেন-তাও আনন্দের। বসে বিশাল বিশাল আড্ডা হলের সামনে, ছাদে-সকাল বিকালে, যে কোন সময়ে। ইংরেজী বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সৈয়দ শাহরিয়া মাহমুদ বলেন, ‘এখানে যেমন শিক্ষার্থীরা অবাধ স্বাধীনতা উপভোগ করে তেমনি একটু অসতর্ক হলে খারাপ পথেও যেতে পারে। এটা একটা পরিপূর্ণ জীবন।’
হল জীবন সুখের তাই বলে পুরোটাই যে সুখের তা নয়। এখানে কিছু সমস্যা আছে, থাকবে। থাকাটা দোষের নয়, সমাধান না করতে পারাটা দোষের। এর জন্য প্রশাসনের সদিচ্ছা জরুরি, যা অনুপস্থিত বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। ভয়কে যে জয় করতেই হবে এটা নয় বরং ভয়ের মধ্যে থেকে নির্ভয়ে চলাটা জয়ের। চলার পথে হোঁচট খাওয়াটা স্বাভাবিক তবে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি থাকা চাই।
