টাঙ্গাইলে সরকারী সা’দত কলেজে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে কতিপয় ছাত্র। এ সময় তারা কলেজের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে খাতা ও প্রশ্নপত্র ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা কলেজের সব পরীক্ষা ও অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি বন্ধসহ সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সা’দত কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র রেজাউল করিমকে গত বৃহস্পতিবার শহরের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান মার্কেটের সামনে থেকে হেরোইনসহ আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে তাকে ছাড়িয়ে না নেয়ায় ছাত্র নামধারী একদল যুবক অধ্যক্ষের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাঙচুর করে। শনিবার দুপুরে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা চলাকালীন একদল বহিরাগত ছাত্র পরীক্ষার হলে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেয়। এসময় তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে একাডেমিক ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে ডিগ্রি পাসকোর্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহাগ বাবুসহ আরো কয়েকজন তাদের চাহিদামত সিট বরাদ্দ দাবি করে। তাদের এ দাবি না মানা হলে কলেজের মহিলা হোস্টেলের সুপার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম সোলায়মান কবিরকে কলেজ থেকে বের করে দেয়াসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। এর প্রতিবাদে শিক্ষকগণ ক্যাম্পাসে তাত্ক্ষণিক মৌন মিছিল বের করেন। এছাড়া টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে গত সোমবার দুপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন কলেজের শিক্ষকরা। এরপর গতকাল মঙ্গলবার আবার কলেজে হামলা চালিয়ে পরীক্ষার সব খাতা ও প্রশ্নপত্র ছিঁড়ে ফেলে যুবকের দল। একই সময় উপাধ্যক্ষের কক্ষ, প্রধান অফিস সহকারীর কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ প্রায় সব বিভাগের সেমিনার কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। ইতিহাস বিভাগে ক্ষয়ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। প্রতিবাদে শিক্ষকরা পরীক্ষা বন্ধসহ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশ ও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ কলেজে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের আগামী বৃহস্পতিবার ঘটনা মিমাংসার জন্য বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিলে শিক্ষকরা তাতে রাজি হন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যে কোন মিমাংসা না হলে পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মসূচি জানানো হবে।
