প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে নেপালে ভোট গ্রহণ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০১
নতুন একটি খসড়া সংবিধান তৈরির জন্য বিশেষ একটি সাংবিধানিক পরিষদ গঠনের জন্য নেপালে ভোট গ্রহণ চলছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে কয়েক বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা উপস্থিত হতে শুরু করেন। তবে সব দলের সম্মতি ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের আওতায় নয়, সর্বদলীয় এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে পরে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে বিরোধী ৩৩টি দলের জোট। প্রতিবাদ হিসেবে তারা সারা দেশে পরিবহন বন্ধের যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে ঘটে চলেছে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা। নেপালের প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ মঙ্গলবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সংসদে ৬০১টি আসনে সদস্যদের নির্বাচন করবেন। ১০০টিরও বেশি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যাদের মধ্যে দেশের তিনটি প্রধান দলও রয়েছে। এরা হলো— সংযুক্ত মার্ক্সবাদী ও লেনিনবাদী দল, নেপালি কংগ্রেস এবং মাওবাদীরা। এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে একটি হাতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। মাওবাদী বিদ্রোহীদের দশকব্যাপী লড়াইয়ের পর নেপালের কয়েক শতাব্দী পুরনো রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে বাম ও ডানপন্থী টানাপড়েনে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচিত বিশেষ পরিষদ গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার পরিকল্পনা করা হলেও এর মাধ্যমে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও আছে। কারণ ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী মাওবাদীদের একটি দলছুট অংশ চলমান নির্বাচনের বিরোধীতা করছে।