পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি সিংহভাগ পুরুষ গ্রামছাড়া

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৯
চরকাউয়ার চর আইচা গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের পর তিন দিন কেটে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। গ্রামের পুরুষ সদস্যদের মধ্যে ২/১ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে এলাকায় ফিরছেন। সিংহভাগ পুরুষই এখন পর্যন্ত গ্রাম ছাড়া। এমনকি অনেক নারী সদস্যও ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন, যারা গ্রামে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। গ্রামবাসীর নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসানো হয়েছে পুলিশ ক্যাম্প। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা হচ্ছে গাছ তলায়। অথচ আজ শুরু হচ্ছে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা এবং ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা। কোমলমতি শিশুদের পড়াশুনা তো দূরের কথা খাবারের নিশ্চয়তা নেই গ্রামের বাসিন্দাদের। পরিস্থিতির উত্তরণে প্রতিদিনই জেলা প্রশাসনের টিমসহ নাগরিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গ্রামে গিয়ে মত বিনিময় করছেন; কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তরা ভরসা পাচ্ছেন না কিছুতেই। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা থেকে নাগরিক প্রতিনিধি দলের ৮ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও নিহত পারভেজ গাজীর পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। নিহত পারভেজ-এর পরিবার প্রতিনিধি দলকে জানান- সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলার সময় তারা নিহত পারভেজ গাজীর ভাই গুরুতর আহত পাভেল গাজীকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলেন। কারা সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছে তা তাদের জানা নেই। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলকে ধরে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বীথি দাস। তিনি জানান- তার ঘর-বাড়ি আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলে গেছে। একটি সুতাও রক্ষা করতে পারেননি। সবিতা রানীর কোলে চিত্কার করে তখন ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদছিল আড়াই বছরের শিশু কন্যা রুদ্র দাস। সবিতার আরো দুইটি শিশু কন্যা রয়েছে ঋতুপর্ণা দাস ও বন্যারানী দাস। সবিতা জানান- স্বামী বাবুল দাস কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। ঘর-বাড়ি জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাওয়ার পর থেকে পুলিশের ভয়ে স্বামী বাবুল দাস পলাতক। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যে সাহায্য আসে তা দিয়ে বড়দের খাবার ব্যবস্থা করা হয়। শিশুরা থাকছে অভুক্ত। সিংহভাগ পুরুষ সদস্য গ্রামে ফিরতে না পারায় শিশুদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছে না নারী সদস্যরা। মামলা হওয়ার পর আর কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ জানায়, তারা হামলার উস্কানিদাতা ও পারভেজ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত: চর আইচা গ্রামের কলেজ ছাত্র পারভেজ গাজীকে গত ১৪ নভেম্বর পরিকল্পিত ভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরদিন গ্রামের নিরীহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অথচ হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বদানকারী সোহাগ দাস ও পাভেল দাসের বসত ঘরসহ আত্মীয়র বাড়ি রয়েছে সম্পূর্ণ অক্ষত।