সীতাকুণ্ডে সড়কে নাশকতা বন্ধে গুলি করার নির্দেশ!

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১০
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণ প্রবাহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে। বিশেষ করে সামপ্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে মহাসড়কের সীতাকুন্ড অংশে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, ডাকাতি, ছিনতাইসহ এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা। তাই এই নৈরাজ্য ও নাশকতা বন্ধে সীতাকুণ্ডের ৫৩ কিলোমিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার। সীতাকুণ্ডে অব্যাহত নৈরাজ্যের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, দেশের এই ‘লাইফ লাইন’ সচল রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের নাশকতা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। তিনি আরো বলেন, নাশকতাকারীদের তালিকা তৈরিকরা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বলেন, তাদের মূল টার্গেট মানুষ ও যানবাহন। সীতাকুণ্ডের ৫৩ কিলোমিটার মহাসড়ক নিয়ে তাই সরকার উদ্বিগ্ন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হস্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের অসহায়ত্বের কথা সভায় তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার ছাড়াও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এ সকল পণ্যের বিশাল অংশ চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এর সাথে যাত্রী পরিবহনের বিশাল যানবাহন তো রয়েছেই। কিন্তু গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে বিরোধীদের হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে সীতাকুন্ড এলাকার ৫৩ কিলোমিটার সড়ক এক ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, হামলা, নির্যাতন, ছিনতাই, ডাকাতি অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে বেছে নিয়েছে। এতে একদিকে পণ্য পরিবহনে যেমন দারুণ ব্যাঘাত ঘটছে। অনুরূপভাবে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ছে। আন্তঃজেলা যাত্রী পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, গত তিন মাসে এই সড়কে তাদের ৩০০ বাস ভাংচুর ও ২০টি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাশের মীরসরাই অংশেও এ ধরনের তাণ্ডব মাঝে মধ্যেই ঘটছে। পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবস্থানগত কারণেও এই বিরাট সড়ক পথে নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ মহাসড়কের উভয় পাশে ছোট-বড় শতাধিক গ্রামে যাতায়াতের সড়ক রয়েছে। দেখা যায়, যানবাহনে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা গ্রামের পথ ধরে দ্রুত সরে পড়ে। তাছাড়া সড়কের অসংখ্য পয়েন্টে পুলিশ দেয়াও সম্ভব হয় না। আবার চার লেন কাজের খোঁড়াখুঁড়িতে এমনিতেই সড়কের বেহাল দশা। তার ওপর যানবাহন চলাচল সামান্য বাধাগ্রস্ত হলে পুরো সড়কেই যানজট লেগে যায়। জানা গেছে, বিজিবি’র টহল জোরদার, র্যাব, পুলিশ, আনসার, ব্যাটেলিয়ন পুলিশের বিশাল অংশ মহাসড়কের সীতাকুন্ড অংশে অবস্থান করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। এই অব্যাহত নৈরাজ্যে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বুধ ও বৃহস্পতিবার পরিবহন ধর্মঘট আহবান করতে বাধ্য হয়। যদিও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পর গতকাল মঙ্গলবার তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সচল রাখা এবং যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগ আজ বুধবার এক জরুরি মতবিনিময় সভার আহবান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মহাসড়কে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সীতাকুণ্ডে এমপি’র বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ এদিকে সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম-৪) আসনের এমপি এবিএম আবুল কাসেমের ছলিমপুরস্থ নিজ বাড়িতে ককটেল বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় এমপি বাড়িতে ছিলেন না। এ ঘটনায় শরিফ (৩০) নামে এক পথচারী আহত হয়েছেন। সাংসদের এপিএস আলহাজ্ব আসলাম হাবিব জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা করে ২ জন যুবক ছলিমপুরস্থ এমপির বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে। এসময় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়ে শরিফ নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়। তাকে নগরীর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটিছে।