জিয়ার আমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বেনজিরের আমলে এই সংগঠনগুলো খুব সক্রিয় হয়ে উঠল। আব্বুও জড়িয়ে পড়লেন ছাত্র রাজনীতিতে এবং শিগগিরই তিনি ভালো বক্তা হিসাবে সুনাম কিনলেন। পাখতুন স্টুডেন্টস ফেডারেশনেরও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। সংগঠনটির মূল দাবি ছিল পশতুনদের জন্য সমঅধিকার। পাকিস্তানে সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঞ্জাবিদের ছিল একচেটিয়া আধিপত্য। কলেজে অপর গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংগঠনটি ছিল ইসলামি জামায়াত-ই-তালাবা। এটা পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন। এরা ছাত্রদের বিনামূল্যে বই সরবরাহ করত এমনকি খরচ খরচাও দিত। তবে এদের মতবাদ অত্যন্ত অসহিষ্ণু এবং এদের প্রিয় কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টহল দিয়ে গানের জলসা ভণ্ডুল করা। জামায়াতে ইসলামি জেনারেল জিয়ার খুব ঘনিষ্ঠ ছিল এবং নির্বাচনে এরা কখনোই সুবিধা করতে পারেনি। জেহানজেব কলেজে এদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইহসান উল-হক হাক্কানি। তিনি আব্বুর ঘোর প্রতিপক্ষ হলেও তারা পরস্পরকে পছন্দ করতেন এবং পরবর্তীকালে দুজন দুজনের খুব ভালো বন্ধুতে পরিণত হন। হাক্কানি বলতেন, আব্বু অবশ্যই পশতুন স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সভাপতি হবেন এবং তিনি যদি ধনী খান পরিবারের ছেলে হতেন তবে ভবিষ্যতে বড় রাজনীতিক হতে পারতেন। কারণ তার মতে, ভালো বক্তব্য রাখতে পারলে ছাত্র রাজনীতিতে ভালো করা যায় কিন্তু রাজনীতি করতে হলে টাকার দরকার।
সেই বছরই সালমান রুশদির লেখা স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাস নিয়ে ঘোর বিতর্ক শুরু হল। বইতে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)কে উপহাস করায় বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা একে ব্লাসফেমি হিসাবে অভিহিত করে ব্যাপক বিক্ষোভ জানাতে থাকে। তবে মজার ব্যাপার হল, যারা বিক্ষোভ জানাত, তারা জানত না যে বইটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে বইটি পাকিস্তানেও বিক্রি হচ্ছিল না। উর্দু খবরের কাগজগুলোতে এক মওলানার লেখা বেশ কিছু নিবন্ধ ছাপা হল। এই মওলানা আবার আমাদের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বইটিকে ইসলামের জন্য অবমাননাকর হিসাবে অভিহিত করে লিখলেন, প্রকৃত মুসলমানদের উচিত, এই বইয়ের প্রতিবাদ জানানো। এর পর সারা পাকিস্তানে বইটির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হল। তারা বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানাতে থাকে। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হল ইসলামাবাদে, ১৯৮৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি। সেখানে আমেরিকান সেন্টারের সামনে আমেরিকান পতাকায় আগুন দেয়া হল, যদিও সালমান রুশদি বা তার বইটির প্রকাশক—কেউই আমেরিকান নন। দুজনই ব্রিটিশ, তারপরও আমেরিকান পতাকায় আগুন লাগল বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হয়। তবে এই বিক্ষোভ শুধু যে পাকিস্তানে হল তা নয়, দুদিন পর ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনি রুশদিকে হত্যার জন্য এক ফতোয়া জারি করেন।
