গল্প নয় সত্যি

পাঁচ তারকা বস্তি ঘর!

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২০:২৪
আশৈশব যারা বিত্ত আর বৈভবের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন দারিদ্র তাদের অনেকের কাছেই কাগজে পড়া কিংবা চলচ্চিত্র, নাটকে দেখা কোনো বিষয়। আর এ ধরনের কিছু বিত্তবানের জন্য বস্তি ঘরে থাকার অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে তার ব্যবস্থা করেই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইনের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি পাঁচ তারকা হোটেল। বিত্তবান গ্রাহকদের জন্য বৈচিত্র্যময় আবাসনের ব্যবস্থা করতে যেয়ে এমোয়া স্পা অ্যান্ড গেম রিজার্ভ নামের এই হোটেলটি বর্তমানে হোটেলের একটি অংশে খোলা আকাশের নিচে টিনের তৈরি একধরনের ঘরে থাকার সুযোগ নিয়ে এসেছে। প্রতি রাতে ৫০ পাউন্ড বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ছ’ হাজার টাকায় আগ্রহী ব্যক্তিরা থাকতে পারবেন এই ঘরগুলোতে। তবে বাইরে দারিদ্রের ছোঁয়া থাকলেও বিত্তবানদের আরাম আয়েশ নিশ্চিত করতে অনেক উপকরণই যোগ করা হয়েছে এতে। আর এ কারণেই বিষয়টিকে দরিদ্রদের সাথে এক ধরনের উপহাস হিসেবেই দেখছেন সমালোচকরা। এখানে থাকতে আসা ব্যক্তিদের জন্য মেঝের নিচের ঘর গরম রাখার আধুনিক ব্যবস্থা যেমন আছে তেমনি থাকছে তারবিহীন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও। এ উদ্যোগটিকে যারা আফ্রিকার হাজার হাজার দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে ব্যঙ্গ করার সমতুল্য মনে করেন তাদেরই একজন আমেরিকার রাজনৈতিক সমালোচক স্টিফেন কবার্টের মতে, ‘এটিকে সবচেয়ে ভালো করে বলতে গেলে সংবেদনশীলতার অভাব আর সবচেয়ে খারাপ করে বলতে গেলে দারিদ্র নিয়ে অশ্লীলতাই বলতে হয়।’ অন্যদিকে এসব সমালোচনার জবাব দিতে যেয়ে হোটেলটির মালিক ওয়েস্টাড বলেছেন, ‘আমাদের এখানে যেসব ভিনদেশি অতিথিরা আসেন তারা প্রায়ই আমাদের বলেন যে ট্যুরিস্ট বাসে করে সোয়েটো বা কেপটাউনের বস্তিবাসীর জীবন দেখার চেয়ে তারা এ ধরনের একটি ঘরে থাকতে চান। আর তাদের এই আগ্রহের কারণেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমার মনে হয়, আমরা নেতিবাচক একটি বিষয়কেও কিছুটা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি এবং এটাই দক্ষিণ আফ্রিকানদের উদ্ভাবনকুশলতা।’