প্রথম ধাপ :সেলফ অ্যাসেসমেন্ট
- প্রথমে আপনার দক্ষতা আর সামর্থ্যকে সনাক্ত করুন। আপনার সবচেয়ে বড় নিজস্ব যোগ্যতা তিনটি কী কী? আপনি কীভাবে আপনার এসব গুণ সম্পর্কে জানতে পারবেন
-কোথায় আপনি এর সফল প্রয়োগ করবেন ?
- আপনি যেসব পেশার প্রতি আগ্রহী, তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়ালেখা করুন। আর ক্যারিয়ারে কী বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে পারেন, তা নির্ধারণ করুন। নিয়োগকর্তারা কী ধরনের দক্ষতার খোঁজ করছে? আপনার নিজস্ব দক্ষতা আর সামর্থ্যের সাথে এটা কীভাবে মানানসই হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানাটা জরুরি।
- আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলির একটি তালিকা তৈরি করুন। কাজ/পেশা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, কর্মপরায়ণতা, নেতৃত্ব প্রদানের গুণাবলী, পুরস্কার প্রভৃতি যোগ করুন এই তালিকায়।
দ্বিতীয় ধাপ :সাধারণ নির্দেশনাবলী
সিভি যেমন আপনার নিজের সম্পর্কে একটি বিজ্ঞাপন, তেমনি আপনার নিজস্ব তথ্য সরবরাহকারী বিজ্ঞপ্তি। আর এ কারণে আপনার জীবন বৃত্তান্তে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
১. এটা যেন পড়তে সহজ ও স্পষ্টাক্ষরে হয়।
২. প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
৩. সিভির বিভিন্ন অংশের হেডিং বিন্যাস যেন সাজানো এবং সঙ্গতিপূর্ণ থাকে।
৪. সিভি নির্ভুল এবং সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। অবশ্য সম্পূর্ণতা বজায় রাখতে হবে। সিভি সাধারণত এক পৃষ্ঠায় লিখতে হয়। তবে এটা আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর নির্ভর করে। নিয়োগকর্তা সাধারণত একটা সিভিতে ১৫-২০ সেকেন্ড চোখ বুলান। এ জন্য আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সুন্দর এবং পরিস্কারভাবে ভালো হেডিং আর ফরম্যাটের মাধ্যমে হাইলাইট করুন।
৫. অনেক স্টাইল এবং ফরম্যাটের মধ্যে আপনার জন্য উপযুক্তটি বেছে নিন। অনেকেই সিভির জন্য এমএস ওয়ার্ডের টেমপ্লেট বেছে নেন। কিন্তু ফাইনাল কপির জন্য অনেকেই একে রিকমেন্ড করেন না। কারণ এতে আপনার সিভি অন্য একজনের সিভির মতোও হতে পারে।
৬. প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
৭. পাঠককে আপনার দক্ষতা গুণের কথা জানাতে মার্জিন এবং টাইটেল ব্যবহার করুন।
৮. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলীকে হাইলাইট করার জন্য ইটালিক হরফে অথবা বড় হাতের অক্ষরে লিখুন এবং আন্ডারলাইন করুন।
৯. শিক্ষা, অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশকে আলাদা সেকশনে উল্লেখ করুন যাতে পাঠক খুব দ্রুত হাইলাইট করতে পারে।
১০. সিভির প্রথমদিকে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ আইটেমগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজান।
১১. একটি আইটেমের জন্য আপনি যতটুকু জায়গা রাখছেন তা ওই আইটেমের গুরুত্ব নির্দেশ করছে, সেটা মনে রাখুন।
১২. পূর্ণ বাক্যের পরিবর্তে ফ্রেইজ/বাক্যাংশ ব্যবহার করুন। সিভি সবসময় ফাস্ট ফার্সন বা প্রথম পুরুষে লেখা বাঞ্চনীয়। নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড সবসময় পজিটিভলি লিখতে হয়। কারণ এটাই আপনার প্রথম ইমপ্রেশন।
তৃতীয় ধাপ :শুরু করুন নিজের সিভি লেখার প্রাথমিক ড্রাফট
- অ্যাসেসমেন্ট স্টেজে তৈরি তালিকা অনুযায়ী আলাদা আলাদা সেকশনে লিখুন।
- প্রথম ড্রাফটের দৈর্ঘ্যের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন নেই। তালিকা সম্পূর্ণ হলে আপনি আপনার সিভি এবং অভিজ্ঞতা সুবিন্যস্তভাবে সাজাতে পারবেন।
- ক্যাটাগরিজ, বর্ণনা এবং সাজানো আপনার উদ্দেশ্য এবং অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। এই লেখায় বা প্যাকেটে যা দেওয়া হচ্ছে তা পুরোপুরি অনুসরণ না করলেও চলবে।
- সৃষ্টিশীল হোন এবং সিভিকে পার্সোনালাইজড করুন।
আইডেন্টিফিকেশন/চিহ্নিতকরণ
- নাম সুন্দর করে লিখুন
- পুরো ঠিকানায় পোস্টাল কোড, শহর, জেলা, এলাকা এবং রোডের নাম সঠিক এবং স্পষ্টাক্ষরে লিখুন। স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান বা মেইলিং অ্যাড্রেস ব্যবহার করুন।
- ফোন নম্বরের সাথে দেশ এবং এলাকা কোড নম্বর লিখুন। আপনাকে যেখানে পাওয়া যাবে অথবা আপনার পরিবর্তে অন্য কেউ যাতে আপনার পক্ষে ইনফরমেশন রাখতে পারে শুধুমাত্র সেসব নম্বর উল্লেখ করুন।
- ইমেইল অ্যাড্রেস :আপনি যেটা বেশি চেক করেন সেই ইমেইল অ্যাড্রেস উল্লেখ করুন।
উদ্দেশ্য
সংক্ষিপ্ত এবং সঠিকই বাঞ্চনীয়। সাধারণ এবং বিশেষ অথবা নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সচেষ্ট থাকুন। আপনার প্রত্যাশিত পজিশন এবং দক্ষতা বিশেষীকৃত করাই এর উদ্দেশ্য। আপনি যে পজিশনের জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সম্পৃক্ততা বজায় রাখুন।
শিক্ষা
ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং তারপর হাই স্কুল। বিশ্ববিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানের নাম ও স্থান, ডিগ্রি, গ্র্যাজুয়েশনের তারিখ অথবা পাসের বছর, মেজর এবং মাইনর বিষয়ের নাম তালিকাবদ্ধভাবে উল্লেখ করুন। প্রয়োগযোগ্য হলে আপনার সার্বিক প্রাপ্ত নম্বর, জিপিএ/মেজর জিপিএ, ক্লাস/র্যাংক একাডেমিক অনার্স/ স্কলারশিপ, প্রজেক্টস, থিসিস, রিসার্চ, সেমিনার, কম্পিউটারে দক্ষতা, বিদেশি ভাষা, প্রাসঙ্গিক কোর্সওয়ার্ক তালিকা অথবা সার্টিফিকেটের কপি সংযুক্ত করুন।
চাকুরির অভিজ্ঞতা
ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন বা ছিলেন তার নাম, অবস্থান, টাইটেল এবং নিয়োগের তারিখ সংযুক্ত করুন। কর্মরত প্রতিষ্ঠানে আপনার পজিশন/অবস্থান বর্ণনা করে স্টেটমেন্ট সংযুক্ত করুন। লিডারশিপ, ভলানটিয়ার ওয়ার্কের মতো বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য চাকরি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরি গৌণ হতে পারে।
হেডিংয়ের জন্য অন্যান্য বিষয়
রিলেটেড এক্সপেরিয়েন্স, দক্ষতা, ইন্টার্নশিপ, অ্যাথলেটিকস, শখ, সেমিনার, প্রফেশনাল মেম্বারশিপ, বিদেশি ভাষা, ভ্রমণ, সম্মান, কম্পিউটার স্কিল, ভলানটিয়ার এক্সপেরিয়েন্স, কমিউনিটি সার্ভিস প্রভৃতি।
চতুর্থ ধাপ :ফাইনাল ড্রাফট
- আপনার ফাইনাল সিভি/রিজিউমটি অবশ্যই ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। গ্রামার এবং বানান ভুল পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে বারবার পড়ুন।
- ভালো প্রিন্টার থেকে সিভি প্রিন্ট করুন। প্রত্যেক সিভিই অরিজিনাল কপি হওয়া উচিত। ফটোকপি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।
- ভালোমানের কাগজ ব্যবহার করুন।
- ইমেইল করার যথাযথ নির্দেশাবলী থাকলেই শুধু সিভি ইমেইল করুন। অন্যথায় সরাসরি ডাকযোগে সিভি প্রেরণ করুন।
আপনার ক্যারিয়ারের যদি বিভিন্ন লক্ষ্য থাকে তাহলে আপনার সিভির অনেকগুলো ভার্সন থাকবে। প্রত্যেক ভার্সন তখন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের টার্গেটে পরিণত হবে। অন্যকে দিয়ে সিভি লেখাবেন না। কারণ ইন্টারভিউয়ে আপনার সিভি দেখে আপনাকে প্রশ্ন করা হবে।
আর দেরি কেন, এখনই লেগে পড়ুন সিভি তৈরিতে।
