বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার শিশু ‘ক্লাবফুট (মুগুর বা বাঁকা পা)’ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সঠিক সময়ে চিকিত্সা না করালে রোগটি সংশ্লিষ্ট শিশুর জীবনে পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে আনে। ফলস্বরূপ ওইসব শিশু পরবর্তী জীবনে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যা দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ। স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যর্থ ও পঙ্গুত্ব বরণকারী ওইসব শিশু পরবর্তী জীবনে বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে। সুচিকিত্সার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য শিশুদের এ ধরনের প্রতিবন্ধিতা রোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ক্লাবফুট প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিগত সাড়ে তিন বছরে পনসেটি পদ্ধতি চিকিত্সার মাধ্যমে ৫৮৮ শিশুর সাড়ে ৮শ’ ‘ক্লাবফুট (মুগুর বা বাঁকা পা)’ সোজা করা হয়েছে। ফলে ওইসব শিশু নিশ্চিত পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার রামেক হাসপাতালের মডেল ফ্যামিলি প্ল্যানিং ক্লিনিকে ‘দি গ্লেনকো ফাউন্ডেশন’ ও রামেক অর্থপেডিক সার্জারি বিভাগের যৌথ সেমিনারে বক্তারা এসব তথ্য জানান। সেমিনারে ক্লাবফুট থেকে মুক্ত কয়েকটি শিশুকে হাজির করা হয়। রামেক অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. বি কে দামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন রামেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান, রামেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. দায়েম উদ্দিন ও বেসরকারি সংস্থা ওয়াক ফর লাইফে’র কান্ট্রি ডিরেক্টর জাহাঙ্গীর আলম। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও পনসেটি ক্লিনিকের তত্ত্বাবধায়ক অর্থপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. সাঈদ আহমেদ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, অভিভাবকদের তথ্যদানের মাধ্যমে জন্মের পর থেকে ৩ বছর বয়স পার হওয়ার আগেই শিশুদের ‘ওয়াক ফর লাইফে’র পনসেটি চিকিত্সা কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। এটি একটি কার্যকর, সুলভ ও স্থায়ী চিকিত্সা পদ্ধতি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এই রোগের চিকিত্সা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
বেসরকারি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ বন্ধের দাবি
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রতিষ্ঠানটির ইন্টার্নি চিকিত্সকরা। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিত্সকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এসময় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. দায়েম উদ্দিন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
