৩৩ ওয়ানডেতে ৬৭.০০ গড়ে ৫টি সেঞ্চুরিসহ ১৫৪১ রান। নাম না শুনে শুধু এই পরিসংখ্যান দেখে অনুমান করা কঠিন, তিনি কোনো টেস্ট বা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়া দেশের খেলোয়াড় নন! নেদারল্যান্ডসের মতো ‘পুচকে’ দলের হয়ে খেলেই এমন বিস্ময়কর পারফরম্যান্স করে চলেছেন রায়ান টেন ডেসকাট।
এই ডেসকাটের ব্যাটিং ইতিমধ্যে এতোটাই খ্যাত হয়েছে যে বিভিন্ন টেস্ট খেলুড়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে দলে ভেড়াতে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। আর সেটা কেন হয় কাল চোখে আঙ্গুল দিয়ে, নিজের ব্যাট দিয়ে মিরপুরের দর্শকদের এবং কলাবাগান অ্যাকাডেমির বোলারদের বুঝিয়ে দিলেন ডেসকাট।
ডেসকাটের দানবীয় এক ফিফটি এবং জাতীয় দলের তিন তারকা রকিবুল, ইমরুল ও আফতাবের ফিফটিতে কলাবাগান অ্যাকাডেমির বিপক্ষে ১৪২ রানের বিশাল জয় পেয়ে পয়েন্ট তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে গাজী ট্যাংক।
গাজীর এই জয় অনুমেয়ই ছিল। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে আসলে ফতুল্লা ও বিকেএসপিতে। ফতুল্লায় প্রাইম ব্যাংককে ৫৬ রানে হারিয়ে গাজী ট্যাংককে নেট রান রেটে পেছনে ফেলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল হয়ে গেছে এবার লিগের চমক প্রাইম দোলেশ্বর!
একদিকে প্রাইম দোলেশ্বরের এই স্বপ্নযাত্রা যখন চলছে, তখন মোহামেডানের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। আবাহনী, কলাবাগান, ব্রাদার্সের মতো সুপার লিগ মিস করতে হয়নি; তবে গতকালও তারা যাচ্ছেতাইভাবে হেরেছে শেখ জামালের কাছে। বিকেএসপিতে অধিনায়ক মাশরাফির প্রবল প্রতিরোধ সত্ত্বেও হেরেছে তারা ৪ উইকেটে।
মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নামা গাজী ট্যাংকের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই বড় রানের দিকে ছুটছিলেন। ২২.৫ ওভারে আফতাব ও ইমরুলের উদ্বোধনী জুটি ১১৪ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়। তবে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন আসলে রকিবুল হাসান। মাত্র ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেও অপরাজিত থাকেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৪ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো ৯৮ রানের ইনিংস খেলেন রকিবুল।
এই রকিবুলের সঙ্গে মিলেই গাজী ট্যাংককে ধরাছোয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কাজটা করেন ডেসকাট। পঞ্চম উইকেটে ৪৮ বলে ১২৪ রানের অপরাজিত এক ধ্বংসাত্মক জুটি গড়েন দু’জন। ডেসকাট শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ১টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে যায় কলাবাগান অ্যাকাডেমি। মাত্র ২৬ রানের ভেতর তারা প্রথম ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। এরপর অধিনায়ক শরীফ উল্লাহ ও ৭০ রান করা সগীর হোসেন পাভেল যে চেষ্টা করেছিলেন, তাতেও কাজ হয়নি। দেওয়ান সাব্বির ব্যাট করতে নামতে না পারায় ৪৫.৩ ওভারে ১৯৫ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস।
ফতুল্লায় প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে প্রাইম দোলেশ্বরকে আরেকটি জয় এনে দিয়েছেন অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। এককভাবে তেমন কেউ ব্যাটে ঝলসে না উঠলেও কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে ভর করে আগে ব্যাট করা দোলেশ্বর ৭ উইকেটে ২৪৪ রানের বেশ ভালো সংগ্রহ দাঁড় করায়। ফরহাদ নিজে ৩২ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। জবাব দিতে নেমে সিহান জয়সুরিয়া ৪৫ রানের ইনিংস খেললেও জয়ের পথ দেখতে পায়নি প্রাইম ব্যাংক। ফরহাদই ৩ উইকেট নিয়ে তাদের ১৮৮ রানে গুঁড়িয়ে দেয়ায় নেতৃত্ব দেন।
বিকেএসপিতে মোহামেডান অধিনায়ক মাশরাফি রুখে না দাঁড়ালে তারকাখচিত শেখ জামালের বিপক্ষে আরো বড় কেলেঙ্কারির মুখে পড়তে হত মোহামেডানকে। ৮০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর মাশরাফি ৪৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১৬৫ রানে পৌঁছে দেন।
এই ‘সামান্য’ রান পাড়ি দিতে গিয়েও বিপাকে পড়েছিল শেখ জামাল। কিন্তু মাশরাফির জবাব হিসেবে শেখ জামালের অধিনায়ক মুশফিক অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন।
সংক্ষিপ্ত স্কো র
ভিক্টোরিয়া—কলাবাগান অ্যাকাডেমি
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং: ৫০ ওভারে ৩৩৭/৪ (রকিবুল ৯৮*, ইমরুল ৬৪, ডেসকাট ৫৪*, আফতাব ৫৩; অভিষেক ১/২৮, সাব্বির ১/৩৬)।
কলাবাগান অ্যাকাডেমি: ৪৫.৩ ওভারে ১৯৫/৯ (সগীর হোসেন ৭০, শরীফ উল্লাহ ৫৫; আরাফাত সানি ৩/৪৫, রুবেল ২/১৪)।
ফল: ভিক্টোরিয়া ১৪২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রকিবুল হাসান।
প্রাইম দোলেশ্বর—প্রাইম ব্যাংক
প্রাইম দোলেশ্বর: ৫০ ওভারে ২৪৪/৭ (মারুফ ৪৯, ফরহাদ রেজা ৪৩*, মোমিনুল ৪০; এনামুল জুনিয়র ৩/৫৩, সিহান ২/৪১)।
প্রাইম ব্যাংক: ৪৯.৩ ওভারে ১৮৮/১০ (সিহান ৪৫; ফরহাদ ৩/৩৩, সাব্বির ২/৩১)।
ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৫৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফরহাদ রেজা।
মোহামেডান—শেখ জামাল
মোহামেডান স্পোর্টিং:৪৬ ওভারে ১৬৫/১০ (মাশরাফি ৪৯; শুভাশীষ ৪/৩০, তানভীর ৩/২৬, ইলিয়াস সানি ২/২৪)।
শেখ জামাল ধানমন্ডি:৩৪.২ ওভারে ১৬৭/৬ (মুশফিকুর রহিম ৪৪*, রহমত শাহ ৩/৩৮, হাবিবুর ২/১৭)।
ফল: শেখ জামাল ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শুভাশীষ রায়।
