বাংলাদেশ এখন গোলমেলে রাজনীতির কবলে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৭
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ এখন গোলমেলে রাজনীতির কবলে পড়েছে। এই আটকেপড়া রাজনীতি থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। তবে ভবিষ্যত্ বাংলাদেশের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি ও বেকারত্ব থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল প্রাপ্তি উপলক্ষে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সংবর্ধনা দেয় ‘ইউএস প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক সমাজ’ নামে একটি সংগঠন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটির লার্গোডিয়া কলেজে থিয়েটার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রায় ৪২ মিনিট বক্তব্য রাখেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বক্তব্যের অধিকাংশ সময়জুড়েই ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ এবং সামাজিক ব্যবসা। তবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে নিজের অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের কারণে বাংলাদেশের অসংখ্য নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন; কিন্তু সেই গ্রামীণ ব্যাংক এখন হামলার শিকার। তিনি সরকার বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না করে বলেন, গ্রামীণ জনপদের নারী সমাজের যুগান্তকারী পবির্তনের জন্য সহায়ক ব্যাংক এখন সারাবিশ্বের দৃষ্টির মধ্যে এসেছে। তবে খুব শিগগিরই গ্রামীণ ব্যাংকের সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি মনে করেন। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের বক্তব্য শুনতে বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়া সমসাময়িক কোনো বিষয়ে সরকারের সমালোচনা না করায় এবং বাংলাদেশের নানান সাফল্য তুলে ধরায় ড. ইউনূসের বক্তব্যে অনেকটা হতাশ হয়েছেন তারা। এ কারণে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই অনেকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব আবু তাহের। সঞ্চালক ছিলেন টিভি উপস্থাপিকা ফাতিমা সাহাব রুমা। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদিকে জামায়াত সমর্থক ড. শওকত আলীকে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক করায় ড. ইউনূসের গণসংবর্ধনা বর্জন করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষা আন্দোলন কমিটি। অন্যদিকে ঢাকার নির্দেশে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কর্মসূচি দিয়েছিল।