শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ও গাজীপুরের টঙ্গীতে গতকাল বুধবার শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুই কনস্টেবল ও এক শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বেশকিছু যানবাহন ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানার গ্লাস ভাংচুর করে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে ৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ৩৮ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে । পুলিশ ও শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষুব্ধ গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ শেষে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। এসময় শ্রমিকরা আশুলিয়া-টঙ্গী সড়কে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে হটিয়ে দিতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল ও বাবার বুলেট ছুঁড়ে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।
পরে সকাল ১০টার দিকে জিরাবো এলাকায় বন্ধ থাকা টেক্স টাউন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা ওই এলাকার লেদারেক্স, গ্লেয়ার ফ্যাশন, ডেকো গ্রুপ, ম্যাগপাই, গ্রিন উইল কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালায়। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে। শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।
এদিকে সংঘর্ষের খবর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে সহিংস ঘটনার আশংকায় আমতলা, জামগড়া, পুকুরপাড়, জিরাবো, নরসিংহপুর এলাকায় কমপক্ষে ৩০টি কারখানায় গতকাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া শ্রমিকরা বেআইনি ভাবে কাজ বন্ধ রেখে কারখানা ত্যাগ করায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা আনুযায়ী আশুলিয়ার পুকুরপাড় এলাকার মাসকট গ্রুপ, রেডিয়েন্স, সাউদার্ন লি., রোজ ড্রেসেস, গ্রীন লাইফ ক্লোথিং ওয়্যার লি. ও সাভারের স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ র্যাব ও বিজিবি’র টহল বাড়ানো হয়েছে।
টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, সকাল ৯ টার দিকে ন্যূনতম বেতন আট হাজার টাকার দাবিতে টঙ্গীর পাগাড় এলাকার সার্ফ ফ্যাশনসহ কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের অনন্ত জিন্স ওয়্যার ও শিশির গার্মেন্টে গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে তারাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ সদস্যরা শটগানের গুলি ছুঁড়লে বিপরীত দিকে কর্তব্যরত দুই পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী এক শ্রমিকের শরীরে গুলি বিদ্ধ হয়। এরা হলেন শিল্প পুলিশের কন্সস্টেবল ফাহাদ বাদশা (২৪), শাহিনূর ইসলাম (২২) ও অনন্ত জিন্স ওয়্যারের শ্রমিক ওহাব আলী (৩৫)। এসময় শ্রমিকদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে পথচারী ও শ্রমিক মিলে আরো ১৭ জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের তাত্ক্ষণিক টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার পর টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকার আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
শান্ত কোনাবাড়ি-কাশিমপুর
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, টানা তিনদিন অশান্ত থাকার পর গতকাল জেলার কোনাবাড়ি, কাশিমপুর ও শারদাগঞ্জ শিল্প এলাকা শান্ত ছিল। কোনাবাড়ির বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে। তবে কাশিমপুর এলাকার ডিবিএল, জিএমএস ও মনি ফ্যাশনসহ অধিকাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। শারদাগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি ছাড়া প্রায় সকল কারখানাই বন্ধ ছিল। সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে আতংক লক্ষ্য করা গেছে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে ওই সব এলাকায় বড় বড় কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ, জলকামান, সাজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।
