আল্লাহর রাহে দাওয়াত চলবে অবিরাম

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৪
মানুষের জীবনে ও আল্ল¬াহ্র জমিনে আল্ল¬াহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্ল¬াহ্র নির্দেশে নবী রসূলদের মাধ্যমেই দাওয়াত পরিচালিত হয়েছে। আমাদের নবী (স.) পর্যন্ত সকল নবীর কাজের সূচনা হয়েছে দাওয়াতের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবীর দাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে: “হে নবী আমি তোমাকে সাক্ষী করে পাঠিয়েছি, তোমাকে বানিয়েছি জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নামের সতর্ককারী। আল্লাহর অনুমতিক্রমে তুমি হচ্ছো আল্লাহর দিকে আহব্বানকারী ও সুস্পষ্ট প্রদীপ (সূরা আল আহযাব-৪৫-৪৬)। “হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী, উঠ আর সতর্ক কর এবং তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্বেও ঘোষণা দাও” (সূরা মুদ্দাসির ১-৩)। আমাদের নবী (স.) ও তাঁর জীবনের প্রথম গণভাষণে বলেন:“হে মানব জাতি তোমরা ঘোষণা কর আল্লাহ্ ছাড়া সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী কেউ নেই। তাহলে তোমরা সফল হবে” (আল হাদীস)। “আমি নূহ (আ.) কে তার কাওমের নিকট পাঠিয়েছিলাম। তিনি কাওমকে ডাক দিয়ে বললেন, হে আমার কওম: তোমরা আল্ল¬াহ্র দাসত্ব কর আল্ল¬াহ্ ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ্ নেই” (আল আরাফ-৫৯)। “এবং আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদ (আ.) কে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বললেন-হে আমার দেশবাসী তোমরা আল্ল¬াহ্্র দাসত্ব কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ্ নেই” (আল্ আরাফ-৬৫)। “আমি অবশ্যই প্রত্যেকটি জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি, যাতে করে তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং নাফরমান শক্তিসমূহকে বর্জন করো” (সূরা আন নাহল- ৩৬)। অনুরূপভাবে ছামুদ জাতির প্রতি তাদের ভাই ছালেহ্ (আ.) এবং মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আ.) একইরূপ আহবান জানিয়েছেন। “হে রসূল, যা কিছু তোমার ওপর নাজিল করা হয়েছে তোমার রবের পক্ষ থেকে তা তুমি পৌঁছে দাও, যদি তুমি তা না করো তাহলে তো রেসালাতের হক আদায় হবে না, আল্লাহ তোমাকে মানুষের অনিষ্ঠ থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনো কোন অবাধ্য জাতিকে পথ প্রদর্শন করে না” (সূরা আল মায়িদা-৬৭)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে রর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন- একটি আয়াত হলেও আমার পক্ষ থেকে মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। আর বনী ইসরাইলদের থেকে আলোচনা করো তাতে কোন দোষ নেই। তবে যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছা করে মিথ্যা আরোপ করে (অর্থাত্ নিজের মনগড়া কখা হাদীস বলে চালিয়ে দেয়) তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম (বুখারী)। “তার কথার চাইতে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে, সত্ কাজ করে এবং বলে আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত” (সূরা হামীম আস সিজদা-৩৩)। “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল অবশ্যই থাকতে হবে, যারা ন্যায়ের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাথবে। আর সত্যিকার অর্থে তারাই সফলকাম হবে” (সূরা আল ইমরান-১১০)। “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের জন্যেই তোমদের পাঠানো হয়েছে। তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সত্ কাজের আদেশ দেবে এবং অসত্ কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে” (সূরা আল ইমরান-১১০)। “আমি যদি এদের জমিনে ক্ষমতা দান করি, তাহলে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত আদায় করবে, সত্ কাজের আদেশ দেবে এবং অসত্ থেকে বিরত রাখবে, তবে সব কাজের চূড়ান্ত পরিণতি একান্তভাবে আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত” (সূরা হজ্জ-৪১)। আল্ল¬াহ্্র দাসত্ব কবুল এবং গায়রুল্লাহ্র দাসত্ব বর্জনের আহবান জানাবার এ কাজটা আল কুরআনে বিভিন্নভাবে ব্যক্ত করা হয়। কোথাও সরাসরি নির্দেশ আকারে এসেছে, যেমন সূরা নহলের শেষ দুটি আয়াতে দাওয়াতের পদ্ধতি শেখাতে গিয়ে বলা হয়েছে: “বলে দিন হে মুহাম্মদ (স.), এটাই আমার একমাত্র পথ, যে পথে আমি আল্ল¬াহ্্র দিকে আহবান জানাই” (সূরা ইউসুফ-১০৮)। এ প্রসঙ্গে আল্ল¬াহ্তায়ালা বলেন: “আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়, তোমার মালিক ভালো করেই জানেন যে, কে তার পথ থেকে বিপথগামী হয়ে গেছে আবার যে ব্যক্তি হেদায়াতের পখে রয়েছে তিনি তার সম্পর্কেও সবিশেষ অবহিত আছেন” (সূরা আন নাহল- ১২৫)।