মেয়েকে ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বৃদ্ধ পিতা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৯
স্বামীর দ্বারা পাচার হয়ে ভারতের কলকাতার নিকটবর্তী দমদম কারাগারে সাজা ভোগ করছেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস কর্মী শিউলী বেগম (২২)। মেয়েকে ফিরে পেতে বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শিউলী বেগমের বৃদ্ধ বাবা মনতাজ আলী। সবশেষে মনতাজ আলী তার মেয়েকে ফিরে পেতে সরকার প্রধান ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শিউলীর পরিবার সূত্র জানায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা এলাকা সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বড় রামচন্দ্রপুর (আবাসন) পাড়ার বাসিন্দা মনতাজ আলীর মেয়ে শিউলী বেগম ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করত। একই জায়গায় চাকরি করার সুবাদে পরিচয় হয় মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার ছোট বারাই গ্রামের বাসিন্দা কফিল উদ্দিন বেপারীর ছেলে মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে শিউলি বেগমের বিয়ে হয়। কিন্তু শিউলী বেগম জানতো না হুমায়ুন কবির একজন নারী পাচারকারী দলের সদস্য। এরপর চলতি বছরের ৫ মার্চ তার সঙ্গে বেড়াতে যায় মানিকগঞ্জে। সেখানে হুমায়ুন কবির কৌশলে পাচারকারী দলের কাছে শিউলীকে বিক্রি করে দেয়। পাচারকারী সদস্যরা সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় বিএসএফ-এর হাতে শিউলী ধরা পড়েন। পরে সেদেশের আদালত তাকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে ৬ মাসের সাজা প্রদান করেন। শিউলী বেগম বর্তমানে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। এখানেই শেষ নয়, ভারতের পাচারকারী দলের সদস্যরা আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে শিউলীকে জামিনে বের করার অপচেষ্টা করে। কিন্তু শিউলী বেগম তাতে রাজি না হওয়ায় ভারতীয় আদালতের আইনজীবী শ্রী শানু মোবাইল ফোনে শিউলীর পরিবারের নিকট খবর দেয়। খবর পেয়ে শিউলীর বাবা মনতাজ আলী ভারতে গিয়ে চলতি মাসের ১ তারিখে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে শিউলীর সঙ্গে দেখা করেন।