আইসিসি’র এফটিপি বা ভবিষ্যত্ সফরসূচিতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট সফর রাখা হয়নি। আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তরফেও ভারতের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেই ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উপেক্ষা অবশ্য নতুন কোন ঘটনা নয়। টেস্ট মর্যাদা লাভের পর ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও প্রতিবেশী দেশটিতে এখন পর্যন্ত একবারও পূর্ণাঙ্গ সফরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ প্রকাশিত সূচি না বদলালে এই অপেক্ষার প্রহর আরও চার বছরের জন্য বাড়ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় দলের সফরসূচিতে বাংলাদেশের সাথে কোন হোম সিরিজ নেই।
বিসিবির পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোন আলোচনা হয়নি। তবে, আমরা চেষ্টা করবো।’ সেই ‘চেষ্টা’য় কোন ত্রুটি হবে না বলেই জানিয়েছেন আকরাম খান, ‘আমরা সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবো। আমরা ভারতকে সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে অনুরোধ করবো।
ভারত ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে কমপক্ষে ৩৭টি টেস্ট, ৬৫টি ওয়ানডে এবং ১৭টি টি-টোয়েন্টি খেলবে জানিয়ে স্পন্সরশিপের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন সিরিজ আয়োজন যে ভারতের ভাবনাতেই নেই সেটা বোঝা গেল সেদেশের ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তার জবানিতে। ভারতীয় ট্যাবলয়েড মেইল টুডেকে বিসিসিআই’র (বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দৃশ্যত তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের খেলা দেখতে কে আসবে?’
ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছে ১৫ বছর আগে। ১৯৯৮ সালের সেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অপর দলটি ছিল কেনিয়া। আর মাত্র একবারই ভারত সফরের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা ছিল ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স টফ্রি। তবে, কোনবারই ভারতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পায় ২০০০ সালে। সে বছরের নভেম্বর ভারতের বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয় বাংলাদেশের। কিন্তু সেটা ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেই ম্যাচ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুদেশের মধ্যে সাতটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এর কোনটিই ভারতে আয়োজিত হয়নি।
এই সময়ের মধ্যে, বিসিসিআই অনেকবার দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। বিশেষ করে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনে টেস্ট খেলার ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হলেও, শেষ পর্যন্ত সেটা ‘আলোচনা’তেই শেষ হয়। এখন তো বিসিবিতে নতুন নির্বাচিত কমিটি আসার পর নিজেরাই কোন আলোচনা করেননি।
