জলবায়ু নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। চলছে দর কষাকষি। কথা হচ্ছে অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে। আর কে আগে সংযতভাবে খনিজ ব্যবহার করবে তা নিয়ে চলছে একে অন্যের উপর দোষারোপ। বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে কেউ এই কাজে এগিয়ে আসছে না। পোল্যান্ডের ওয়ারশোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীদের মধ্যে গত দুই দিন এসব নিয়ে চলছে দেনদরবার। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিদের হয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে গেলে কার্বন কমাতে হবে। আর কার্বন কমাতে গেলে খনিজ ব্যবহারে সংযত হতে হবে। কিন্তু নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিবেচনায় কেউ এই কাজে এগিয়ে আসছে না। বিশেষ করে যারা বেশি খনিজ ব্যবহার করে তারা সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দিচ্ছে। ফলে কার্বন কমানোর উদ্যোগ নিতে পারছেন না বিশ্ব রাজনৈতিক নেতারা। আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মান, রাশিয়া এসব উন্নত দেশের সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে চীন ও ভারত। উন্নত ঐ সব দেশের সাথে চীন ও ভারতও কার্বন কমানোর উদ্যোগ না নিতে অনড়। এদিকে এই ১৯তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনেও উন্নত দেশগুলো কোন আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।
এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয় ও ক্ষতি বিষয়ে জলবায়ু সম্মেলনের দর কষাকষিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষয় ও ক্ষতির বিষয় দেখভাল করার জন্য আলাদা আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনে উন্নত দেশগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে আলোচনা থেকে ওয়াক-আউট করে উন্নয়নশীল দেশের জোট জি-৭৭ ও চীন। বুধবার সকাল থেকেই পরিবেশবাদীদের সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা গেছে। ওয়ারশো স্টেডিয়ামের বাইরে তারা ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন
গত সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এবার আলাদা স্বাধীন সংগঠন গঠন করা হবে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। এটা না করতে কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। অন্যদিকে জি-৭৭ ও চীন গ্রুপও (১৪০টি দেশের জোট) তাদের প্রস্তাবের ব্যাপারে অনড়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত বলেন, রাত ৩টা পর্যন্ত আলোচনা ভালই চলছিল। কিন্তু বিরতির পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। উন্নত দেশগুলোর কঠোর মনোভাবের কারণে জি-৭৭ ও চীনের ওয়াকআউট করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
বাংলাদেশের সাংবাদিক সম্মেলন
জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোজন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কানকুন এডাপটেশন ফ্রেমওয়ার্কের দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছে। বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের দলনেতা পরিবেশ ও বন সচিব সফিকুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, ২০১৫ সালে একটি আইনগত চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারেও একটি নির্দিষ্ট পথনকশা হওয়া জরুরি।
