বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিয়ে সহিংসতা কারো কাম্য হতে পারে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকান কর্ণারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।
মজীনা বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বড় দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও শীর্ষ পর্যায়ে পারসপরিক আলোচনা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্থিতিশীল দেখতে চায়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশের পণ্য বিশ্ববাজারকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখে। রানা প্লাজার মতো আর যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে এজন্য গার্মেন্টস শিল্পের ভবনগুলোকে টেকসই করে তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড্যান মজীনা বলেন, খুলনায় আমেরিকান কর্ণার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা আজ এক ইতিহাস গড়লাম। আমরা বিশ্বাস করি এই কর্ণারটি কমিউনিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের সংযোগ কেন্দ্রে পরিণত হবে। সৃষ্টিশৈলীর মাধ্যমে উদ্যোক্তা, শিল্পী, সরকারি নেতৃবৃন্দের আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, মধ্য আয়ের দেশ হিসাবে সোনার বাংলা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই কর্ণারটি বিশেষ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল জলীল, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা ক্যাম্পাসের প্রধান অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করিম, আমেরিকান কর্ণার খুলনার সমন্বয়ক ফারজানা রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ১ হাজার বর্গফুটের এই স্থানে আসবাবপত্র সামগ্রী, বই ও ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর জন্য ১ লাখ ডলারের অধিক বিনিয়োগ করেছে।
