গতকাল বৃহস্পতিবার মজুরি বোর্ডের বৈঠকে সকল সদস্যের সম্মতিতে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা চূড়ান্ত করা হয়। মজুরি বোর্ড আশা করছে, শিগগিরই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি।
নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী ৭টি গ্রেডের মধ্যে সর্বনিম্ন গ্রেড বা সপ্তম গ্রেডে ৫ হাজার ৩০০ টাকার মজুরি কার্যকর হবে। এতে মূল মজুরি ধরা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিত্সা ভাতা ২৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা ও ৬৫০ টাকা খাদ্য ভর্তুকি ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হবে। এটি এবারই প্রথম যুক্ত করা হলো। এই মজুরি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
ষষ্ঠ গ্রেডে মোট মজুরি (সব মিলিয়ে) পাঁচ হাজার ৬৭৮ টাকা, পঞ্চম গ্রেডে ৬ হাজার ৪২ টাকা, চতুর্থ গ্রেডে ৬ হাজার ৪২০ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে ১০ হাজার ৯০০ টাকা ও প্রথম গ্রেডে ১৩ হাজার টাকা মোট মজুরি ধরা হয়েছে।
এর আগে মজুরি বোর্ডের প্রস্তাবে মূল মজুরি তিন হাজার ২০০ টাকা থাকলেও গতকাল তা তিন হাজার ধরে মজুরি চূড়ান্ত করা হয়। চূড়ান্ত ঘোষণায় মূল মজুরি ২০০ টাকা কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য ড. কামাল উদ্দিন বলেন, এই সিদ্ধান্তে তখন মালিকপক্ষের আপত্তি ছিল। সব পক্ষের আপত্তি বিবেচনা করে ২০০ টাকা মূল মজুরি থেকে কমলেও ৫ হাজার ৩০০ টাকার অংকে কোন হেরফের হয়নি।
মজুরি বোর্ডের বৈঠক চলাকালে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট নামে একটি সংগঠন। বিক্ষোভকালে তারা মূল মজুরি না কমানো এবং খাদ্য ভর্তুকিকে মোট মজুরির বাইরে রাখার দাবি জানান।
