গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছর গাইবান্ধায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাজার মূল্য বেশি পেয়ে কৃষকদের মুখেও ফুটে উঠছে হাসি। জেলার প্রায় সব গ্রামের মাঠে কৃষক এখন ধান কাটতে ব্যস্ত। জমি থেকে আনা ধান মাড়াই ও শুকানোর পর গোলায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ির গৃহিণীরা। এবারে বিঘা প্রতি ধানের ফলন হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ মণ। আবাদের খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের বেশ ভালই লাভ থাকছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া ভাল থাকায় চলতি বছর গাইবান্ধা জেলায় এক লাখ ২৮ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ছয় হাজার ২ শ’ হেক্টর বেশি। আগাম জাতের হাইব্রিড ও উফশি ধানের জীবনকাল ১০৫ থেকে ১১৫ দিন। ফলন ৩৩ শতকের বিঘায় প্রায় ১৮ থেকে ১৯ মণ হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ থেকে ছয় মণ বেশি। স্থানীয় জাতের ধানের জীবনকাল একটু বেশি বলে জানা গেছে। বন্যার স্থায়িত্ব কম হওয়ায় গাইবান্ধার চরাঞ্চলে গাঞ্জিয়া জাতের ধানের ব্যাপক চাষ হয়েছে। নদীর পলি মাটিতে গাঞ্জিয়া ধান চাষে খরচ কম হওয়ায় গৃহস্থরা অনেক লাভবান হয়েছেন।
সাঘাটার ঝাড়াবর্ষা গ্রামের চাষী হবিবর রহমান জানান, গত এক যুগে আমন ধানের এত ভালো ফলন পাননি তারা। এবছর খরচ বাদে বিঘায় তিন থেকে চার হাজার টাকা লাভ থাকবে। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভাল বীজ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
