মো. নাজমুল হাসান খান
মহাপরিচালক
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি
ময়মনসিংহ
২০১২ খ্রিস্টাব্দ হতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় শতকরা ১০ নম্বরের যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত হয়। শুরুতে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন বিষয়ে যথেষ্ট উত্কণ্ঠা ও কৌতুহল ছিল। তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১২ অনুষ্ঠিত হবার পর যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিরাজমান উত্কণ্ঠা কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। এ বছর মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্নের মধ্যে ২৫ নম্বর হবে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন। বাকী ৭৫ নম্বরের প্রশ্ন সরাসরি বই হতে করা হবে। যোগ্যতাভিত্তিক ২৫ নম্বরের প্রশ্নসংশ্লিষ্ট সকলের উত্কণ্ঠার বিষয় নয়। কারণ এ প্রশ্নগুলো পাইলটিং করা হয়েছে। পাইলটকৃত প্রশ্নগুলোর মধ্যে যেগুলো ৩০-৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তর দিতে পেরেছ, কেবল সেগুলো সমাপনী পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর অর্থ হলো যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন খুব কঠিন বা খুব সহজ হবে না- কাঠিন্যের দিক থেকে মাঝামাঝি ধরনের হবে।
বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত নতুন প্রশ্নসমূহ :
১. বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠ্য বই বহির্ভুত একটি অনুচ্ছেদ থাকবে এবং প্রদত্ত অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে যোগ্যতাভিত্তিক ২৫ নম্বরের প্রশ্ন করা হবে। এছাড়া বাংলা ইংরেজি বিষয়ে একটি ফরম পূরণ বিষয়ক প্রশ্ন থাকবে। এ ক্ষেত্রেও একটি খুব সংক্ষিপ্ত তথ্যবহুল অনচ্ছেদ থাকবে এবং উক্ত অনুচ্ছেদ হতে তথ্য নিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। এবার ইংরেজি বিষয়ে Translation (বাংলা হতে ইংরেজি) এবং অনুবাদ (ইংরেজি হতে বাংলা) থাকবে। উভয় ক্ষেত্রে পৃথক ৫টি বাক্য অথবা ৫ বাক্যের ১টি অনুচ্ছেদ থাকতে পারে।
২. গণিত বিষয়ে ২৫ নম্বরের যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের মধ্যে ১০ নম্বরের ১০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, ৫টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন এবং ১০ নম্বরের একটি কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন থাকবে। কাঠামোবদ্ধ ১০ নম্বরের এ প্রশ্নে ৪-৫টি অংশ থাকবে।
৩. প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা (সকল) বিষয়ে প্রশ্ন ক্রমিক ১ এ ৪০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের মধ্যে ১৫টি হবে যোগ্যতাভিত্তিক এবং প্রশ্ন ক্রমিক ৪ এ ১০টি প্রশ্ন থাকবে। তন্মধ্যে ক ও খ উপক্রমিকের প্রশ্ন হবে যোগ্যতাভিত্তিক।
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ :আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে, ইতোমধ্যে আপনারা আপনাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৩ এর উপযোগী করে গড়ে তুলেছেন। তারপরও নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করছি।
* পরীক্ষার পূর্বে আপনার পোষ্যকে অধিক রাত পর্যন্ত পড়াবেন না।
* কোমলমতি পরীক্ষার্থীদেরকে অধিক চাপ প্রদানে বিরত থাকবেন।
* তাদেরকে Fast food, Rich food খাওয়ানো হতে বিরত থাকবেন যেন তার সুস্থ্য থেকে সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
*পেন্সিল বক্সে একাধিক কলম, পেন্সিল, ইরেজার, মার্কার দিবেন যাতে করে কোন একটি নষ্ট হলে অপরটি দিয়ে তার উত্তর লেখা অব্যাহত রাখতে পারে।
* আপনার পোষ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী পরীক্ষা না দিয়ে থাকলে তাকে গালমন্দ না করে বরং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য ভাবতে বলবেন। পরীক্ষার্থীকে সর্বদা হাসি খুশি রাখতে চেষ্টা করবেন।
* পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে পানি পান করার জন্য গ্লুকোজ/চিনি/গুড় মিশ্রিত পানি দিবেন। কারণ এ মিশ্রিত পানি পরীক্ষার্থীকে শক্তি যোগাবে।
সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী :আমি নিশ্চিত যে ইতোমধ্যে মাসিক, সাময়িক ও মডেল পরীক্ষার মাধ্যমে আপনারা আপনাদের বিদ্যালয়ভিত্তিক পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করেছেন। তদুপরি নিচে উল্লেখিত পরামর্শগুলো বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।
*পরীক্ষার্থীদের আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী করার লক্ষে অনুপ্রাণিত করা। *যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের বাড়তি কোন চাপ প্রদান না করা।
* পাঠ্যবই ভালোভাবে আত্মস্থ করার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
* সমাপনী পরীক্ষাকে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাময়িক/মডেল পরীক্ষা বিবেচনা করে বাড়তি টেনশন না করার জন্য পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করা।
