সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সভায় বক্তারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে যত সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে তা সবই ঘটেছে রাজনৈতিক কারণে। এসব ঘটনার একটিও ধর্মীয় কারণে ঘটেনি। এই একটি বিষয় অনুধাবন করলে খুব সহজে সমাধান পাওয়া যায় যে, দেশের নোংরা কলুষিত রাজনীতির শিকার হচ্ছে ধর্মীয় উপাসনালয়। যারা এসব করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে।
শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কবি আশরাফ সিদ্দিকী, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ূয়া, প্রফেসর ফাদার তপন ডি রোজারিও, সঞ্জিব চৌধুরী, কবি আব্দুল হাই শিকদার, উত্তম বড়ূয়া, আবৃত্তিকার নাসিম আহমেদ, রিপন দে প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে সকল ধর্মের মহাপুরুষরা শান্তির কথা বলে গেছেন। ন্যায়ের পথে চলার কথা বলেছেন। অথচ আমরা এখানে এক ধর্ম অন্য ধর্মের মাঝে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছি। এ কাজটি কোন সুস্থ মানুষ করতে পারে না। প্রত্যেক ধর্মের মধ্যে একাত্মতা রয়েছে। বক্তারা বলেন, এদেশ তো কেবল চার ধর্মের দেশ নয়; হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মের বাইরেও আরো একটি ধর্ম আছে, সেটি আদিবাসীদের নিজস্ব ধর্ম। সে কথাও আমাদের মনে রাখতে হবে।
ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বক্তারা বলেন, অন্য সব ধর্মের মানুষদের নিয়ে বাস করাই ইসলাম ধর্মের কাজ। অথচ ইসলামকে অন্য ধর্মের প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলা হচ্ছে। ২০০১ সাল থেকে যত সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে, তার একটিরও সঠিক বিচার হয়নি বলেই এ ধরনের ঘটনা ক্রমাগত ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার পর এদেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল ৩৩ ভাগ। কমতে কমতে এখন এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ ভাগে। একটি দেশ কতটা গণতান্ত্র্রিক তার মাপকাঠি নির্ধারণ হয় সেই দেশের সংখ্যালঘুরা কতটা নিরাপদে আছে তার উপর। সেই অবস্থান থেকে দেশ ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে পেছাতে থাকলে একসময় মুক্তিযুদ্ধের তাত্পর্য নষ্ট হয়ে যাবে।
