চকরিয়ায় গত তিন বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ১০টি বালু মহাল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। বর্তমানে প্রভাবশালীদের নিয়োজিত লোকজন এসব বালু মহালের ছড়াখাল ও শাখা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে। প্রতিযোগিতমূলক বালু উত্তোলনের কারণে শাখা নদী ও ছড়াখাল লাগোয়া এলাকায় শত শত জনবসতি চরমভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ইতোপূর্বে জড়িত প্রভাবশালীরা বালু মহালগুলো যাতে প্রশাসন ইজারা দিতে না পারে সেজন্য উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই মামলার কারণে গত তিন বছর ধরে সরকারি ১০টি বালু মহাল ইজারা দিতে পারছে না প্রশাসন।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, বালু মহালগুলো ইজারা দিতে না পারায় সরকার প্রতিবছর প্রায় ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে পাহাড় ও ভূমি ধসের অভিযোগে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) একটি রিট মামলা দায়ের করেন। এসময় আদালত বালু মহালগুলো ইজারা প্রদান ও বালু উত্তোলনে ৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে আদালতের দেয়া ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে।
স্থানীয়রা জানান, আগে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও এখন বিনা বাধায় ইজারা না নিয়েও দিন-রাত এসব মহাল থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার খুটাখালী বাজারের পূর্ব পাশে ছড়াখালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিব্যি বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম প্রকাশ রফিক, শাহজাহান প্রকাশ শাহজাহান মাষ্টার, সামসুদ্দিন। এছাড়াও খুটাখালী তিনটি বালু মহাল থেকে একই কায়দায় বালু উত্তোলনের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন বেলাল উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন, মিন্টু, রানা, শাহজাহান, আবদুর রহমান, জসিম উদ্দিন ও আবু তাহের।
অপরদিকে মালুমঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আবদুল করিম, ডুলাহাজারা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমরান, ইউনুছ, আবদুল কাদের, শওকত, পুতিয়া, পাগলির বিল সেতুর পাশে নুরুল কবির, মো. হোসেন প্রকাশ পুতন্যা, বাবুল, আবদুল মান্নান, মিন্টু ও সাবেক মেম্বার নূরুল কবিরসহ তাদের সহযোগিরা উত্তোলনকৃত বালু সড়কের ওপর মজুদ করে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা করে আসছেন। অন্যদিকে ফাঁসিয়াখালী ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করছেন রিটকারী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর স্বজনরা।
