এসেছে অতিথি পাখি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৪
শীত না পড়লেও চলে এসেছে অতিথি পাখির দল। রং-বেরংয়ের নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির কিচির-মিচির ডাকে এখন মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস। এসব পাখি ক্যাম্পাসের লাল শাপলা শোভিত ১২টি লেকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। তাদের অবিরাম উড়াওড়ি আর লেকের পানিতে খুঁনসুঁটি উপভোগ করতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও নেপাল থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে আসে। এ সময় সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের উত্তরে শুরু হয় প্রচণ্ড শীত ও তুষারপাত। ফলে ঐ অঞ্চলে পাখিরা থাকতে পারে না। নিজেদের বাঁচাতে এরা ডানায় ভর করে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ সংলগ্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। দেশের হাতেগোনা যে কয়েকটি এলাকায় এরা ক্ষণস্থায়ী আবাস গড়ে, তার মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এ দেশে আসে। মার্চের শেষদিকে আবার ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। এবার জাবি ক্যাম্পাসে যে সব অতিথি পাখি এসেছে, তার মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মানিক জোড়, ডেঙ্গা, চামচঠুঁটি, চিত্তা, খঞ্জনা, নাকতা, কোম্বডাক ও পাতারী হাঁস অন্যতম। পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মূলত ১৯৮৬ সাল থেকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করে। প্রথম দিকে ক্যাম্পাসে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটলেও গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জরিপে দেখা গেছে, ১৯৮৬-৮৮ সময়কালে ক্যাম্পাসে প্রায় ৭৬ প্রজাতির ভিনদেশী পাখির আনাগোনা ছিল। কিন্তু গত ২০০৮-০৯ সালে এই সংখ্যা ২৫ -এ নেমে আসে। আর ২০১২ সালে এসে সে সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮০টি প্রজাতিতে। এদিকে অতিথি পাখিদের সংরক্ষণে প্রতিবছরই জাবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় পাখি মেলা। এবারের পাখি মেলা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতি বছর সাধারণত যেসব পাখি আসে এর মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক ও পাতারী অন্যতম। এছাড়া মানিক জোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি প্রভৃতি পাখিও এদেশে অতিথি হয়ে আসে প্রতি বছর।