নগর সংস্কৃতি

শিল্পকলায় রাধারমণ উত্সব

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৫
রাধারমণের সহজিয়া বাংলা গানের সুরে সারাদিনমান পার করলেন দর্শক-শ্রোতারা। শিল্পকলা একাডেমীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অগণিত দর্শক সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বুঁদ হয়ে উপভোগ করলেন বাংলা গানের এই দিকপালের রচিত গান। অষ্টাদশ শতকের এই লোককবি গান রচনা করেছেন প্রায় ১ হাজার ১১৭টি। রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের ৯৬তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার থেকে শিল্পকলা একাডেমীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুই দিনের ‘রাধারমণ সংগীত উত্সব। উত্সবের আয়োজন করেছে যৌথভাবে শিল্পকলা একাডেমী ও রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ । উত্সব সাজানো হয়েছে রাধারমণের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য দিয়ে। এ উত্সবের উদ্বোধন করেন ৮১ বছর বয়সী রাধারমণের গানের শিল্পী চন্দ াবতী রায় বর্মণ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল গবেষক ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. হারিসুল হক। আলোচক ছিলেন আবুল খায়ের ও রাধারমণের দৌহিত্র অমিত বিজয় চৌধুরী। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত্ রায়। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমীর সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কেন্দ্রের সভাপতি মাহমুদ সেলিম। অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে জন্ম রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের। শ্রীহট্ট যা বর্তমানে সিলেট নামে পরিচিত, সেই পুণ্যভূমিতে তিনি জন্ম নেন। যেখানে চৈতন্যদেবের নাম সংকীর্তন ও নগরকীর্তনের অধিক চর্চা ছিল। প্রাণস্পর্শী সেই সুরের সাথে সহজিয়া ভাবাদর্শের কথায় তিনি প্লাবিত করেছিলেন সমকালীন লোকমানসকে। কালের বিবর্তন ঘটেছে, তবু বর্তমান জীবনে তিনি প্রাসঙ্গিক। আর সেজন্যই গতকাল সকাল থেকেই তার স্মরণে আয়োজিত উত্সবে যোগ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছুটে আছে রাধারমণ প্রেমীরা। তন্ময় হয়ে সকাল থেকে রাতঅব্দি শোনেন তার ধামাই, দেহতত্ত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, ভজনসহ নানা আঙ্গিকের সংগীত। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘মনে নাই নাই গো আমারে’ গান দিয়ে। গানটি পরিবেশন করে বাঁশুরিয়া। তারা আরও একটি গান ‘আসবে শ্যাম কালিয়া’ পরিবেশন করে। উত্সবের প্রথম দিন একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুষমা দাশ, চন্দ্রাবতী রায় বর্মণ, হিমাংশু বিশ্বাস, তন্বী দেব, আকরাম আলী, পলক অধিকারী, প্রান্ত আচার্য, অনুপ বিশ্বাস, অঞ্জনান চক্রবর্তী, শান্তনা চক্রবর্তী, স্বপ্না দেবনাথ, লাভলী লস্কর, সূর্য্য লাল, আমির আলী, সুধীর লাল দাস, শামীম আহমেদ, মীর ইউসুফ, রাখাল চক্রবর্তী, রামেন্দ্র চন্দ্র দাস, তামান্না নিগার তুলি প্রমুখ। সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে মন্দিরা শিল্পী গোষ্ঠী। শিল্পীদের কণ্ঠে শোনা গেলো ‘আমার শ্যাম বিনে প্রাণ বাঁচে না’, ‘ললিতে সুখ হইল না কালার পিরিতে’, ‘প্রাণ কান্দে গো প্রাণ সখী’, ‘ওরে ও রসিক নাইয়া;, ‘আমার আশানি পুরাইবায়’, ‘নগরে হইলাম দুষি’সহ আরও অনেক গান। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে উত্সবের প্রথম দিনের আয়োজন। উত্সবের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনের শুরু হবে আজ শনিবার সকাল ১০টায়। প্রাঙ্গণে মোর নাট্যদলের ‘আট নাটক দশ বছর’ ভিন্ন ধারার নাট্যচর্চার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত নাট্যদশ প্রাঙ্গণে মোর। চলতি বছর পথচলার এক দশকে পদার্পণ করলো দলটি। বিশেষ এই লগ্নকে স্মরণীয় করে তুলতে তারা আয়োজন করেছে আটদিনের বিশেষ নাট্যোত্সবের। শিরোনামটিও বেশ ‘আট নাটক দশ বছর’। গতকাল শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ উত্সবের উ"্বোধন করেন প্রাঙ্গণে মোরের নিজস্ব নিয়মিত প্রযোজনার নেপথ্যের আট শিল্পী। উদ্বোধকরা হলেন— ঠান্ডু রায়হান, ফয়েজ জহির, শাহীনুর রহমান, জিল্লুর রহমান, মজুমদার বিপ্লব, ইভান শাহিরয়ার সোহাগ, জাকির হোসেন শিপলু ও তৌফিক আজীম রবিন। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাঙ্গণে মোরের পরিচালক অনন্ত হীরা। উদ্বোধনের পর সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় প্রাঙ্গণে মোরের প্রথম প্রযোজনা ‘শ্যামাপ্রেম’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্য অবলম্বনে নাট্যরূপ দিয়েছেন চিত্তরঞ্জন ঘোষ। ‘শ্যামাপ্রেম’ নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হীরা। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- নুনা আফরোজ, রামিজ রাজু, অনন্ত হীরা, নিজাম লিটন, আবু ইউসুফ পলাশ, শুভেচ্ছা রহমান, সুমী মন্ডল, জসিম, রবি খান প্রমুখ। আজ শনিবার উত্সবের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস অবলম্বনে নাটক ‘স্বদেশী’। এটি নির্দেশনা দিয়েছেন নূনা আফরোজ। এছাড়া ২৪ নভেম্বর অনন্ত হিরার রচনা ও নির্দেশনায় ‘লোকনায়ক’, ২৫ নভেম্বর নূনা আফরোজের নির্দেশনায় ‘রক্তকরবী’, ২৬ নভেম্বর রমিজ রাজুর নির্দেশনায় ‘দ্রোহ প্রেম নারী’, ২৭ নভেম্বর নূনা আফরোজের নির্দেশনায় ‘শেষের কবিতা’, ২৮ নভেম্বর অনন্ত হিরার নির্দেশনায় ‘আওরঙ্গজেব’ এবং ২৯ নভেম্বর সমাপনী দিনে অনন্ত হিরার নির্দেশনায় ‘ঈর্ষা।