‘আই অ্যাম মালালা’

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৬
অশিক্ষা, কুসংস্কার, সামাজিক ও ধর্মীয় নানা বেড়াজাল পেরিয়ে কন্যা সন্তানের এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইউনিসেফের যে কল্পনার মীনা, তারই যেন বাস্তব রূপ আজকের মালালা। তবে আরো বেশি প্রতিবাদী, আরো বেশি সাহসী, আরো বেশি উজ্জ্বল। তারই ছোট্ট জীবন আর আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে লেখা এ বই। আব্বু তখনও সেই কলেজে কাজ করছিলেন। কিন্তু নায়িম তখন ঘুরে ঘুরে ভাড়া বাড়ি খুঁজছেন স্কুলের জন্য। একদিন তিনি হাফাতে হাফাতে এসে আব্বুকে জানালেন যে, শহরের লান্দিখাস এলাকায় খুব সুন্দর একটা বাড়ি পাওয়া গেছে। চারদিকে পাঁচিল দেয়া দোতলা বাড়ি। ভেতরে বেশ একটু জায়গাও আছে। তিনি জানালেন, সেখানে একটা স্কুলও আছে। রামাদা স্কুল। যিনি স্কুলটি চালান, তিনি এক সময় তুরস্কে ছিলেন। সেখানে রামাদা নামে একটি হোটেল ছিল, সেই নামেই তিনি স্কুলের নাম করেন। তবে বহু ধার-দেনা হয়ে পড়ায় তিনি স্কুলটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু যেহেতু স্কুলটা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে তাই এটা ভাড়া নেয়ার আগে আরেকবার ভাবা দরকার। তাছাড়া, বাড়িটি একটা নদীর ধারে। লোকজন তাতে আবর্জনা ফেলে। গরমের দিনে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে। আব্বু তাঁর কাজ থেকে ফেরার পর গেলেন বাড়িটি দেখতে। তখন রাত হয়ে গেছে। আকাশে তারাগুলো জ্বলজ্বল করছে। গাছের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদ। আব্বু এটাকে একটা মঙ্গলের বার্তা হিসাবে ধরে নিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে ভেবে কি যে ভালো লাগছিল—তা বলে বোঝানোর নয়।’ নায়িম ও আব্বু তাদের জমানো ৬০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ শুরু করলেন। ৩০ হাজার টাকা ধার করে নিয়ে বাড়িটি ফের রঙ করালেন। তাঁরা স্কুলের উল্টোদিকে রাস্তার ধারে ছোট একখানি ঘর ভাড়া নিলেন থাকার জন্য। এরপর তাঁরা দু’জন দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ছাত্র সংগ্রহ করতে লাগলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইংরেজি পড়ার ব্যাপারে ছাত্রদের তেমন আগ্রহ দেখা গেল না। এর মাঝে তাঁদের সঞ্চিত টাকা খরচ হয়ে যেতে লাগল। স্কুল থেকে ফেরার পর রাজনীতিটাও চালিয়ে যেতে লাগলেন আব্বু। এই রাজনীতির সূত্রে বহু লোক আসত তাঁর কাছে। তাদের বেশিরভাগ দুপুরের খাওয়া সারত তাঁর কাছে। আব্বু বলেন, ‘তাদের খাওয়ানোর মত পয়সা ছিল না আমাদের।’ নায়িম অভিযোগ করতে লাগলেন এ ব্যাপারে। তিনি আব্বুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও তারা বুঝতে পারলেন, দু’জনের এক সঙ্গে ব্যবসাটা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। শেষে দু’জনের মধ্যে বিরোধও দেখা দিল। কথা বলা বন্ধ হল। স্থানীয় মুরব্বিদের ডেকে বসা হল ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে। স্কুলটি ছাড়ার ইচ্ছা ছিল না আব্বুর। তাই তিনি নায়িমের শেয়ারের টাকা দিয়ে দিলেন। তবে আব্বু ভেবে পাচ্ছিলেন না, কিভাবে তিনি স্কুলটা চালাবেন। এমন সময় ঘটল এক ঘটনা। আব্বুর এক পুরনো সহপাঠী এসে নায়িমের অংশটা নিয়ে আব্বুকে টাকা দিতে চাইলেন। আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন আব্বু। আব্বু করিতকর্মা মানুষ। তিনি নতুন উদ্যমে লেগে পড়লেন স্কুলে ছাত্র জোগাড় করতে। তিনি কথাও বলতে পারতেন ভালো। তাঁর সঙ্গে আলাপ করলে লোকে মুগ্ধ হত। ফলে তাঁর কথা শুনে অনেকেই তাঁদের ছেলেদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হলেন।