সিলেটের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়-টিলা কাটা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সবুজ সিলেটের পরিবেশ ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। বৈচিত্র্যময় জীব-জন্তুর নিরাপদ স্থানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। হারিয়ে যেতে বসছে সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য।
নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের অধিকারী সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা দুটিতে পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে একশ্রেণীর ভূমি দস্যুরা। তারা দিন-রাত সমান ভাবে পাহাড় কর্তন করে দেদারছে মাটি বিক্রি করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসন কাউকেই তোয়াক্কা করছে না তারা। এলাকাবাসী বলেছেন, পাহাড় ও টিলাগুলো দ্রুত রক্ষায় এগিয়ে না আসলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা খনিজ তেল ও গ্যাসে ভরপুর হরিপুর। ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কৃত হয় এখানে। এখানে যে সব পাহাড় ও টিলা রয়েছে সেগুলোতে প্রচুর কাঁঠাল, তেজপাতা ও নানা প্রজাতির লেবু উত্পাদন হয় এবং এগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
‘‘এলাকাটি যেমনি সুন্দর তেমনি ঝুকিপূর্ণও বটে। ৫৬ সালে এখানে গ্যাস উত্তোলন কালে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল”,এই মন্তব্য করে এলাকার বেশ কয়েকজন সচেতন নাগরিক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে পাহাড়-টিলা সাবাড় হচ্ছে আবার কোন সময় বিপর্যয় নেমে আসে কে জানে।”
জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের খান বাগানের জার্মান টিলা একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল পাহাড় কেটে দেদারছে মাটি বিক্রি করছে। পাহাড় কর্তন নিয়ে গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জৈন্তাপুর সরেজমিন পরিদর্শন করে পাহাড় কাটা বন্ধও করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভূমি দস্যুরা থেমে থাকেনি।
পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ছাড়পত্র ছাড়া সিলেট বিভাগের সদর, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ২০১১ সালের ১ মার্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা রিটের রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের নের্তৃত্বাধীন যৌথ বেঞ্চ এই রায় দেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐ এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধ করা হয়েছিল। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটকে বলা হয়েছে।
গোলাপগঞ্জের ধারাবহর পাহাড় বিলিন হচ্ছে
সিলেটের গোলাপগঞ্জের ধারাবহর পাহাড়ও কেটে বিলিন করে দেয়া হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ধারাবহর পাহাড়টি কয়েকশ একর ভূমি জুড়ে অবস্থিত। সাত বছর আগে উপজেলার ওই পাহাড়ের ৩০ একর ভূমির উপর মডেল টাউন নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেন ওই এলকার এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী। সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেশ-বিদেশে চটকধার বিজ্ঞাপন দিয়ে শত শত শ্রমিক লাগিয়ে দেয়া হয় পাহাড় কাটতে। পরে তা বন্ধ করতে বাধ্য হলেও এখন আবার পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে।
