তফসিলের দিন থেকেই দেশ অচল করে দেব :ফখরুল

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
গতকাল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা না করে যেদিন তফসিল ঘোষণা করা হবে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশ অচল করে দেয়া হবে। বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাদের দেশ চালানোর কোনো অধিকার নেই। তিনি বলেন, চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমরা জাতির অভিভাবক রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি। উল্টো তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা এই একতরফা নির্বাচনে যাবো না। এই নির্বাচন হতে দেবো না। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রতিবাদ, ১৮ দলের আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং নির্দলীয়- নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে মির্জা ফখরুল একথা বলেন। আগামীকাল রবিবার সারাদেশের উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির গোলাম মূর্তজা, এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমেদ, জামায়াতের ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, ডা.শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জাফরুল হাসান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মনির হোসেন মনির, ছাত্র শিবির নেতা আতিকুর রহমান আতিক প্রমুখ। মির্জা ফখরুল ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা জেগে উঠুন, রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। এই সরকার স্বৈরাচারী, জুলুমবাজ, খুনি ও অবৈধ সরকার। তাকে সরে যেতে বাধ্য করতে হবে। সময় খুব কম সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। এ সরকারকে আর ক্ষমতায় ফিরে আসতে দেয়া হবে না। সরকার গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছে মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ আর একবার বাংলাদেশের সংবিধানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আরেকবার দেশের মানুষের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ভেঙ্গে চূর্ণ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের পুরনো স্বপ্ন বাকশাল কায়েমের পথে এগিয়ে চলছে। ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, মানুষ আজকে একটি ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। আজ থেকে ২ বছর আগে আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশে এ সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগ এমন একটি নির্বাচন চায়, যাতে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার বাংলাদেশকে ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। কিন্তু বাংলার জনগণ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেশের স্বাধীনতা এনেছে। প্রয়োজনে আবারো রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবে, কিন্তু পরাধীনতা মেনে নেবে না। সাদেক হোসেন খোকা বলেন, এই সরকার মহাজোট সরকারেরই আরেকটি রূপ। ফলে এই সরকার সংবিধান পরিপন্থী। এই সরকার অবৈধ। ৫ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, জুলুম-নির্যাতন যতই বাড়বে, আন্দোলন ততোই প্রকট হবে। খোকা বলেন, সবাইকে কারাগারে নেয়া হলেও আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। আমান উল্লাহ আমান বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে এ দেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা দেশের মানুষকে নিয়ে এ একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করবে। শফিউল আলম প্রধান বলেন, বর্তমান সরকার সর্বদলীয় বা বহুদলীয় সরকার নয়-‘এটা হিন্দুস্তানের রাজাকার সরকার।’ তিনি বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে হাসিনা সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে মতিউর রহমান নিজামী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ সব রাজবন্দীকে মুক্ত করা হবে। ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কাদের মোল্লার রায় নিয়ে সরকার টানাহেঁচড়া করছে। নিজামীর রায় নিয়েও টানাহেঁচড়া করছে। রায় নিয়ে সরকার যদি প্রভাব বিস্তার করে তাহলে ৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। জামায়াত-শিবিরকে গুলি করে দমানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আজ আবার মাঠে নেমেছি। হয় জীবন থাকবে না হয় তত্ত্বাবধায়ক আসবে।