করল্লা খেতে কিছুটা তেতো হলেও এর পুষ্টিমান অনেক। করলার ভাজি, ভর্তা ও রকমারি রান্না আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এতে পলিপেপ্টাইড-পি নামে বিশেষ ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান থাকায় প্ল্যান্ট ইনসুলিন হিসেবে কাজ করে।
করল্লা লতানো বীরুত্ জাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Momordica charantia। এটি cucurbitaceae বা কুমড়া পরিবারের সদস্য। করল্লা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (৬-৮ সেন্টিমিটার) এবং বেশ লম্বা (২০-৩০ সেন্টিমিটার) দীর্ঘ আকৃতিরও হয়। সবুজ ছাড়াও সাদা ও বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে। এদের উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের ফুল দেখতে বেশ সুন্দর।
করল্লাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’ থাকে (প্রতি এক শ গ্রামে ১৮৮ মিলিগ্রাম), যা রোগ প্রতিরোধক। করল্লার ফোলেট উপাদান গর্ভবতী মায়েদের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়াও করল্লা আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্ত শূন্যতা দূর করতে পারে।
করল্লাতে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় তা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। রক্তের ক্ষতিকর লিপিড বা চর্বি কমাতে পারে। ভিটামিন ‘এ’ বা ক্যারোটিন, লুটিন, জিয়াজান্থিন প্রভৃতি থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধক এবং বার্ধক্যরোধী। নিয়াসিন, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি খনিজের ভালো উত্স, যা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালোরি কম থাকায় করল্লায় ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি নেই। শক্তি বর্ধনে বিভিন্ন লোকজ চিকিত্সায় যেমন কৃমি নাশে, চর্ম রোগে, লিভারের রোগে, বসন্ত ও হাম রোগে, আর্থ্রাইটিস, শ্বাসযন্ত্রের পীড়ায় করল্লার পাতা, কাণ্ড ও বিভিন্ন অংশের ব্যবহার রয়েছে।
