পদ্মায় বালু উত্তোলন চলছেই ঝুঁকিতে বাম তীর

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৪
রাজশাহীর পবা উপজেলার তিনটি পয়েন্টে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী মহল। ফলে ওইসব পয়েন্টে পদ্মার বাম তীর ও শহর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জানা গেছে, প্রভাবশালী মহল পবা উপজেলার সোনাইকান্দি, নবগঙ্গা ও খোলাবোনা এলাকার পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিনশ’ ট্রাক বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে পদ্মার সোনাইকান্দি পয়েন্টের বাম তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার খুব কাছেই রয়েছে শহর রক্ষা বাঁধের ৫ নম্বর গ্রোয়েন। অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে এ গ্রোয়েনসহ শহর রক্ষা বাঁধ ও পদ্মার বাম তীর। উত্তোলিত বালু পরিবহনের জন্য প্রতিদিন শত শত ট্রাকের উঠানামায় সংলগ্ন কাঁচা ও পাকা সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বালুতে ঢেকে যাচ্ছে আশপাশের বাড়িঘর। এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গত ২৮ অক্টোবর সোনাইকান্দি ও নবগঙ্গা এলাকার বাসিন্দারা রাজশাহী জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, নবগঙ্গার টি-গ্রোয়েনের পশ্চিমপার্শ্বে বালুর হাট খোলায় নদীর পাড়ের বাসিন্দারা ব্যাপক নদী ভাঙ্গনের সম্মুখীন হচ্ছে। উভয় গ্রামের কৃষি জমির অনেকাংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে টি-গ্রোয়েনটি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ট্রাক ও বালুর স্তূপ জব্দ এবং বালু উত্তোলনকারীদের ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। তারপরেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এ ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে তারা শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলা এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পবার তিনটি পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।