টাকা দিয়ে আর বিষ কিনব না বেঁচে থাক আমাদের মাটি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৪
‘টাকা দিয়ে বিষ কিনে এনে নিজেদের ক্ষতি করছি। আর বিষ কিনব না। আর নিজেদের ক্ষতি করব না। আমরা চাই আমাদের মাটি বেঁচে থাকুক। আমার দেশ মা দীর্ঘজীবী হোক।’ এমনই প্রত্যয় উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শুক্রবার যশোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ব্যতিক্রমী এক কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠান। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরার তেলীধান্যপুড়া গ্রামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের প্রায় ৩শ’ কৃষক-কৃষাণি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দাপনা গ্রাম থেকে আসা ঘাস চাষি নাজমা বেগম জানালেন তার ‘ঘাসের রাণী’ খেতাব পাবার কথা। বললেন, ৫ কাঠা জমি নিয়ে তার ঘাস চাষ মিশন শুরু। শুরুতে স্বামী-শ্বশুর তার ঘাসপ্রীতিতে আপত্তি করলেও এখন বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করে তার মাসে আয় হয় ২০ হাজার টাকা। বাংলার ঘরে-ঘরে তার মতো প্রত্যয়ী নারী যেন জেগে ওঠে তাই তিনি এসেছেন প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী করার ইচ্ছে নিয়ে। ঝিকরগাছা থেকে আসা আলেয়া খাতুন জানালেন, ২ টাকার সঞ্চয় দিয়ে শুরু হওয়া তাদের সমিতির বিশালত্বের কথা। ঝিনাইদহের মোস্তফাপুরের মনোয়ারা বেগম জাপানিদের কাছ থেকে শেখা ‘ইমো’ নামের বালাইনাশক কিভাবে তৈরি করে জৈব সারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আয় করা সম্ভব সে গল্পে উদ্দীপ্ত করে তোলেন অন্যদের। মহেশ্বরচান্দার বৃদ্ধ কৃষক হেলালউদ্দীন জানালেন, দাম্পত্য জীবনের শুরুতে ভাতের অভাবে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে গিয়েছিলেন। আর আজ তিনি দারিদ্র্যকে শুধু দূরেই ঠেলেননি, দরিদ্রতা দূর করার রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবসা করে—যা তিনি ছড়িয়ে দিতে চান সবার মধ্যে। ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উলাসী সৃজনী সংঘ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর কুমার দাস ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র যুগ্ম মহাসচিব ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল। স্বাগত বক্তব্য দেন উলাসী সৃজনী সংঘ’র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আজিজুল হক মনি। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত যশোরের ফুল চাষি গদখালী ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিমকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।