নগর সংস্কৃতি

ছায়ানটে সুফিয়া কামাল স্মরণ

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০২
কবি সুফিয়া কামাল শুধু নারীর জন্যই ভাবেননি, ভেবেছেন মানুষের জন্য। সুফিয়া কামালের প্রেরণাকে লালন করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার ছায়ানট স্মরণ করলো জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালকে। সুফিয়া কামালের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ২০ নভেম্বর। এ উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় ছায়ানট তাদের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করেছিল এ স্মরণ অনুষ্ঠানের। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের সহ-সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, আমাদের মাতৃভূমি এখন দুঃসময় অতিক্রম করছে। এ পরিস্থিতিতে সুফিয়া কামালকে বারবার মনে পড়ে। ধর্মান্ধ শক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গ্রাস করতে চাইছে। এ ক্রান্তিলগ্নে সুফিয়া কামালের মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের শক্তি যোগায়। সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা দেন ছায়ানটের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য প্রাবন্ধিক মফিদুল হক। স্মারক বক্তৃতায় সুফিয়া কামালের অন্তর-বাহির তিন মাত্রার অবলোকন শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল নারীর অধিকারকে তার সাহিত্য রচনায় মানবাধিকার হিসাবে তুলে ধরেছেন। বক্তৃতা শেষে ছিল সঙ্গীত আয়োজন। অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত ও দ্বিজেন্দ লাল রায়- এ তিন কবির গান দিয়ে সাজানো হয়েছিল অনুষ্ঠান। শুরুতেই সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা শুরু করেন ‘হে-বিহ্বল, করুণা-ছলছল’ গানটি। এরপর একে একে গেয়ে শোনান ‘এত আলো বিশ্ব মাঝে’, ‘আয় আয়, আমার সাথে’, ‘হেসে নাও এ দুদিন’, ‘আজি গো তোমার চরণে জননি’। একক কণ্ঠে শিল্পী এ টি এম জাহাঙ্গীর গেয়ে শোনান ‘আমি অকৃতি অধম’, তানিয়া মান্নান শোনান ‘সবারে বাসরে ভাল’, বুলবুল ইসলাম গেয়ে শোনান ‘আমি সকল কাজের’, পার্থ সারথী সিকদার পরিবেশন করেন ‘সংসারে যদি নাহি’, সুমা রানী রায় ‘বেলা যে ফুরায়ে যায়’, মিতা হক শোনান ‘আমি বাঁধিনু তোমার তীরে’, সুমন মজুমদার ‘ঐ মহাসিন্ধুর ওপার হতে’, ইফফাত আরা দেওয়ান শোনান ‘কত গান তো হলো গাওয়া’। এছাড়াও একক গান গেয়ে শোনান নাসিমা শাহীন ন্যান্সি, আজিজুর রহমান তুহিন ও খায়রুল আনাম শাকিল।