সাড়ে চার লাখ একর তথাকথিত অর্পিত সম্পত্তি সরাসরি অবমুক্ত

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৫
‘খ’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি আর তথাকথিত অর্পিত বলে গণ্য হবে না এবং অতীতে কখনোই এ ধরনের সম্পত্তি তথাকথিত অর্পিত বলে ঘোষিত হয়নি বলে গণ্য করা হবে। অর্থাত্ তহসিলদারের বালাম বই থেকে এরকম সম্পত্তির খতিয়ান আপনা আপনি অবমুক্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এরকম সম্পত্তির পরিমাণ সাড়ে চার লাখ একর বলে জানা গেছে। যেসব সম্পত্তি সরকারের দখলে নেই, সরকার লীজও দেয় না, যা কোন না কোন নাগরিকের দখলে রয়েছে- সেগুলোকেই ‘খ’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে তথাকথিত অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে ওই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত যেসব সম্পত্তি ইতিমধ্যে জেলা আপিল কমিটি কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়ে গেছে তাও বাতিল হবে। ঠিক এরকম বিধান রেখেই তথাকথিত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১-এর সংশোধন ২০১৩ পাস হবার পর গত বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয় ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি অবমুক্তির বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে। তবে ‘ক’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা তথাকথিত অর্পিত সম্পত্তির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলার কার্যক্রম যথারীতি চলবে। প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ‘খ’ তফসিলভুক্ত দুই লাখ ৪৩ হাজার ৩৫১টি মামলা দায়ের হয়। যার মধ্যে আলোচ্য সময়ে ১২ হাজার ৮২৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। এখন এসব নিষ্পত্তিকৃত মামলার কোন কার্যকারিতা থাকবে না। এছাড়া ‘ক’ তফসিলের এক লাখ ৩২ হাজার ৪৭১টি এবং ‘খ’ তফসিলের ১ লাখ ৩০ হাজার ১৮৮টি মামলা দায়ের হয় ট্রাইব্যুনালে। এরমধ্যে ‘ক’ তফসিলের ১ হাজার ৪৫৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (আইন) ইব্রাহীম হোসেন খানের সই করা দুইটি পৃথক পরিপত্র জারি হয়েছে। আইনের ২৮ (ক) ধারা সংযুক্ত সম্পর্কিত জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘খ’ তফসিল এমনভাবে বাতিল হলো যে, এই তালিকা কখনোই করা হয়নি। এই তফসিলের যেসব জমির হোল্ডিং বৈধভাবে খোলা হয়েছিল এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হতো তা আগের মতো আদায় করতে হবে। রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দলিলপত্র করার পরও যাদের নামে হোল্ডিং খোলা হয়নি তাদের নামে হোল্ডিং খুলে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে। রেজিস্ট্রিকৃত বিনিময় দলিলের অন্তর্ভুক্ত ভূমির ক্ষেত্রে পৃথক খতিয়ান খুলতে দলিলের সত্যতা যাচাই করে হোল্ডিং খুলে ভূমি উন্নয়ন কর নিতে হবে। উপযুক্ত আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব জমি অবমুক্তির আদেশ রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘খ’ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত জমি যা ইতিমধ্যে ১/১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা বাতিল হবে। তবে সেখানে সরকারের স্বত্ব ও স্বার্থ থাকলে কালেক্টর তা রক্ষার্থে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমির ভোগদখলকারী পরিপত্র জারির পর থেকে এক বছরের মধ্যে বৈধ প্রমাণ বা দলিলপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে সেসব জমি জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ৯২ ধারা মতে খাস ঘোষণা করতে হবে। এবং ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়াসহ হালনাগাদ আদায় করতে হবে। এ প্রসঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক ইত্তেফাককে বলেন, কোন তহসিল অফিস, এসি ল্যাড অফিস যাতে আইন বা পরিপত্র নিয়ে ঝমেলা তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য শিগগির সারাদেশের ওইসব কর্মকর্তাকে ডাকা হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (আইন) ইব্রাহীম হোসেন খান ইত্তেফাককে বলেন, আইনের ব্যাখ্যা ও পরিপত্র দুইটিই জারি করা হয়েছে। এখন কোন কর্মকর্তা জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে পারবে না। যদি জনদুর্ভোগের কোন অভিযোগ পাওয়া যায় তা তদন্ত করে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।