সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে চায় বিএনএফ

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৬
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশে চলমান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে চায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া দলটি। একই সঙ্গে তারা ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী করারও দাবি জানান। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনএফের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এ কথা বলেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত দলীয় প্রস্তুতি নেয়ার সুবিধার্থে ২৪ জানুয়ারির পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সংবিধানের লঙ্ঘন হবে না। তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। কাউকে মাইনাস করে নির্বাচন করলে সে নির্বাচন যেমন গ্রহণযোগ্য হবে না তেমনি তা স্থায়ীত্বও পাবে না। নির্বাচন কমিশন একবার তফসিল ঘোষণা করে আবার যেন পুনঃতফসিল ঘোষণা না করে। এতে জনগণের মনে শঙ্কা তৈরি হবে। বিএনএফ’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনএফ যাতে নিবন্ধন না পায় সেজন্য বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ার ও নাজমুল হুদা একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে মৌখিক আবেদন জানিয়েছে। তবে ৭ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর কোনো রাজনৈতিক দল এটা নিয়ে আপত্তি তোলেনি। ফলে ১৮ নভেম্বর বিএনএফকে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দেয়। এ সময় কোনো আপত্তি না তোলায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এইচএম এরশাদ একজন স্বৈরশাসক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি একজন বড় পরিকল্পনাকারী। কখন কী করেন, ঠিক নেই। তার থেকে আপনি সাবধান থাকুন। এরশাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার চালাকি মানুষ ধরে ফেলেছে। আর চালাকি চলবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনএফের সহ-আহ্বায়ক জাহানারা বেগম, সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের শুরুতে ক্রমানুসারে দলের নেতাদের নাম উল্লেখ না করায় বিএনএফের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ট্রেজারার মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ মিনিট সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত রেখে তাকে তাত্ক্ষণিক দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। এ সময় আজাদের লোকজন মজলিশকে জোর করে সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে সভাপতি তার প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করেন।