ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ককটেল হামলা ঠেকাতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সারাদেশে অন্তত ছয়শ’ ককটেল উদ্ধার হলেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছেই। পুলিশ ও র্যাব বলছে, ককটেল তৈরির কারিগর, এতে ব্যবহূত রাসায়নিক উপাদান বিক্রেতা এবং ককটেল তৈরির অর্থদাতাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা ধরে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোম্ব ডিসপজাল টিমের সমন্বয়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন।
র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, সারাদেশে ককটেল তৈরির কারিগরদের একটি তালিকা র্যাব তৈরি করেছে। এছাড়া এই কারিগরদের কারা অর্থের যোগান দিচ্ছে তারও একটি তালিকা করা হয়েছে। এসব তালিকা ধরে র্যাব অভিযান চালাচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, শুধু ঢাকাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্র্রায় পাঁচশ’ ককটেল উদ্ধার করেছে। ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান উদ্ধার এবং ককটেল হামলাকারী কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেয়া তথ্যে ককটেল তৈরির পেছনে কারা আছে তা শনাক্ত করার কাজ চলছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, বাসা ভাড়া করে সহজেই তৈরি করা হচ্ছে ককটেল, গ্রেনেড, পেট্রোল, পাইপ ও চকলেট বোমা। দেশে ১২টি পেশাদার গ্রুপসহ অন্তত চারশ’ জন ককটেল তৈরি ও ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত। রাজধানীতে দুই শতাধিক পেশাদার ককটেল কারিগর আছে। এদের প্রধান ১৮ জনকেও শনাক্ত করেছে ডিবি। ডিবির অভিযানে অর্ধশতাধিক ককটেল কারিগর গ্রেফতর হয়েছে। তবে বর্তমানে পেশাদার কারিগরের চেয়ে শিবির কর্মীরাই ককটেল তত্পরতায় বেশি সক্রিয়। এদের বলা হয় ককটেল টিম। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোকে নিজেদের মধ্যে বলে ‘আওয়াজ দেয়া’। গত ১১ নভেম্বর আজিমপুরের নিউ পল্টন ইরাকি মাঠের পাশে একটি টিনসেড ভবনের মেস থেকে ১৫৩টি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ককটেল মজুদকারী চক্রটিকে এখনও ধরা যায়নি। তবে এর পিছনে শিবির কর্মীরা জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গত ১০ নভেম্বর কাঠালবাগানের ৮৮ নম্বর বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ ককটেলসহ চার শিবির কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরদিনই একই এলাকার ২৪৯ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ২৪০টি চকলেট বোমাসহ নাজিমউদ্দিন ও আহসান হাবিব নামে দুই শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে ডিবি। ১২ নভেম্বর বিকালে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্রধান ফটকের পাশে থেকে বড় আকারের একটি বোমা উদ্ধার করে ডিবি।
এ ব্যাপারে ডিবির বোম্ব ডিসপজাল টিমের সমন্বয়ক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, আইডি টাইপ এই বোমাটির ওজন ৫০০ গ্রামেরও বেশি। একটি এ্যারোসলের বোতলে বোমাটি তৈরি করা হয়। এটি নতুন ধরনের বোমা। এ বোমা বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারত। ৩ নভেম্বর হরতালে বোমা হামলা চালাতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন নামে একজন আত্মঘাতি হামলাকারী আহত হন। পরে ৬ নভেম্বর রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকা থেকে তার প্রশিক্ষক সফিকুল ইসলাম সফিককে গ্রেফতার করে ডিবি।
