তফসিল ঘোষণা যে কোন দিন

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১৩
আগামী দশম সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যে কোন মুহূর্তে নির্বাচনের তফসিলের ঘোষণা দিতে পারে কমিশন। আজ রবিবার অথবা সোমবারই তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্ধারিত দুইদিন আগেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে মনোনয়ন ফরম। আসনভিক্তিক চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণ তৈরির প্রস্তুতি অনেকটা সেরে ফেলা হয়েছে। আজ দুপুরের মধ্যে আচরণবিধির গেজেট করার জন্য একজন নির্বাচন কমিশনারকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। দুপুরের মধ্যে গেজেট হলে বিকালেই তফসিল ঘোষণা করতে পারেন সিইসি। কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়ে ইত্তেফাককে বলেছে, নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণার লক্ষ্যে গত শুক্র ও শনিবার কমিশন খোলা রাখা হয়। এরই মধ্যে কারিগরি সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল এবার কেন্দ্রে না পাঠিয়ে জেলা পর্যায় থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে আচরণবিধি চূড়ান্ত গেজেট করা গেলে যে কোন মুহূর্তে তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব। তবে রবিবার না হলে সোমবার তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। কমিশনের নির্দেশনা পেলে এবং সভা তলব করলে তাত্ক্ষণিক প্রস্তুতি নিয়ে কার্যপত্র সভায় উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর কোন সভা-সমাবেশ করতে পারবে না প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো। এর আগে গত শুক্রবার চাঁদপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, সোমবারের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে প্রার্থীদের জন্য ৫০ হাজার মনোনয়ন পত্র ছাপার কাজ শেষ করে তা গতকালই আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। আজকের মধ্যে ১০ হাজার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়ালও পাঠানো হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় আইন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাসহ সার্বিক বিষয় এতে যোগ করা হয়েছে। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার কিছু অংশ সংশোধন করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে কমিশনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে আচরণবিধির ২ ধারা (চ) তে কমিশনের প্রস্তাবিত ‘নির্বাচনের পূর্ব সময়ের স্থলে নির্বাচনকাল সময়’ প্রতিস্থাপনের মত দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এছাড়াও কিছু শব্দ ও ভাষার পরিবর্তনে মত আছে আইন মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয়ের মতের সঙ্গে একমত কমিশন। আজ রবিবার সংশোধিত আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাবেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক। দুপুরের মধ্যে আচরণ বিধির গেজেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইচ্ছা করলে আচরণ বিধি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেন। নতুবা আগামী সোমবার করা হতে পারে তফসিল ঘোষণা। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, শনিবার বিকালে গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে মনোনয়নপত্র ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজপত্র পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের তফসিলের আগে সব ধরনের কারিগরি বিষয়গুলো প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। বাড়ছে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্য বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি এবার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্বকালীন সময়ও। এবার তফসিল ঘোষণার পরই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি কমিশন সভায় পাঠানো হয়েছে। আজকালের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। মূলত বর্তমানে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ধারণা করেই ম্যাজিস্ট্রেট বাড়ানো হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণে নানা তদবির নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও স্থানান্তরে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করার জন্য তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫টি করে তদবির কমিশনে জমা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত ২৩টি তদবির কমিশনে জমা হয়। এর আগের দিন জমা হয়েছে ২২টি। কমিশন বিষয়গুলো দেখার জন্য আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে।