গণতন্ত্রকে খাঁচায় বন্দী করার চেষ্টা চলছে :ড. কামাল

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১৫
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে নির্বাচনের নামে গণতন্ত্রকে খাঁচায় বন্দী করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শুরু হয়েছে একতরফা নির্বাচনের খেলা। এই নির্বাচন দিয়ে দেশ আরো বড় রকমের সংকটের আবর্তে নিক্ষিপ্ত হবে। অনেক কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্র খাঁচায় বন্দী হয়ে যাবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) একাংশের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনার প্রসঙ্গ ছিল, ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিজেপি নেতা ডা: মুকিত প্রমুখ। ড. কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো দল ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে কী হয়, তা এদেশের মানুষ জানে। দলীয় সরকারের অধীনে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছিল। এরপর ১৯৮৮ সালে হয়েছিল ভোটারবিহীন পাতানো নির্বাচন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটারবিহীন নির্বাচন এদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। সে কারণে কয়েকদিনের মধ্যেই ওই নির্বাচন বাতিল করতে হয়েছিল। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই এটা প্রমাণিত যে, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। সুতরাং বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেশের মানুষ সেই নির্বাচন মানবে না। জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের তীব্র সমালোচনা করে বিশিষ্ট এই আইনজ্ঞ বলেন, তিনি একই সঙ্গে সরকারেও আছেন, আবার বিরোধী দলেও আছেন। এটা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। জনগণ বোঝে, এসবের উদ্দেশ্য ভালো না। এরশাদকে ‘থুতু সাহেব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপনি আমার চেয়েও বয়সে বড়। এই বয়সে পরকালের চিন্তা করা দরকার। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটা কার মাথা থেকে এলো, কে করল এই সংশোধনীর খসড়া, সেটাও একটা গবেষণার বিষয়। আ স ম আব্দুর রব বলেন, সারা দুনিয়ার রাষ্ট্রসমূহ ও প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে চলেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও দি ইকোনোমিস্টসহ বিশ্বখ্যাত পত্রিকায় বাংলাদেশ নিয়ে ক’দিন পরপর রিপোর্ট হচ্ছে। তারা এদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলছে। এক ব্যক্তির গোঁয়ার্তুমির জন্য দেশের ১৬ কোটি মানুষ অর্থনীতির বর্তমান ক্ষতি মেনে নিতে পারে না। তিনি বলেন, যেহেতু এখনো পার্লামেন্ট বহাল আছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীত্ব নয়, মানুষের শান্তিই তার কাছে বড়, সুতরাং তিনি রাষ্ট্রপতির ওপর দায়িত্ব দিয়ে দেশের মানুষকে অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ইচ্ছার বাইরে আর কারো কথাই মানতে রাজি নয়।