মিশু, সোমা ও মিতু তিনজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থী। তিনজনেরই একে অন্যের সাথে ভাল বোঝাপড়া, ভাল সখ্যতা। মিশু হলে থাকে আর বাকি দুজন পরিবারের সাথে বাসায়। অন্য বন্ধুদের বেড়াতে যাওয়া দেখে ওদের ইচ্ছে হয় দূরে কোথাও বেড়াতে যায়। প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখে ভুলে যাবে শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল। প্রথমে তিন বন্ধু পরিকল্পনা করে অন্যদেরও জানায়। অনেকে সন্দিহান থাকলেও বেশিরভাগ ছিল যাওয়ার দলে। ঠিক হয় বিভাগের শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে যাবে সুন্দরবন। কিন্তু নিরাপত্তা, আবাসন সঙ্কটের কথা চিন্তা করে শিক্ষকরা অনুমতি দিতে অপারগ হয়। নাছোড়বান্দা বন্ধুরা বুঝিয়ে শুনিয়ে অবশেষে রাজি করাতে সক্ষম হয়। সবার মন উত্ফুল্ল। বন্ধুরা মিলে নানারকম পরিকল্পনা করতে থাকে। হাসাহাসি আর আনন্দ আড্ডার মাঝে দল বেঁধে বসে পড়ে সবাই। একেক জনের এক এক রকম প্রস্তাব। কারোটা সবাই মেনে নেয়, কারোটা স্থগিত। কেউবা চুপ থেকেই মজা পায়। আয়োজক সোমার মতে, মেয়েদের উদ্যোগে একটা বেড়ানোর পরিকল্পনা। মজাটাই অন্যরকম। ছেলে বন্ধুরাও আন্তরিক বিধায় কাজ করতে সমস্যা হয় না। আর অল্প স্বল্প ভুল বোঝাবুঝি ওটা নিজেরাই সেরে ফেলা যায়। সদা চুপচাপ মেয়ে রুবির পুরো আয়োজন জুড়েই ছিল মন খারাপ। কারণ, সদ্য বিয়ে হওয়া বউ। শ্বশুর বাড়ি থেকে বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। নতুন বউ। এখনি বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গেলে চারপাশের মানুষ বলবেটা কি? অন্য সময় যখন বলা হল, তখন আর উত্তর দেয়ার কিছু থাকে না। রুবির মত বিয়ে না হলেও আরো অনেক বন্ধুই যেতে পারবে না। কারণ, পরিবার থেকে অনুমতি মেলে নি। সব সময় হাসি খুশি থাকা মেয়ে মোনা বলে, বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনে বেশ খুশি হয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিল অনেক মজা করব। কিন্তু, বাসায় রাজি হচ্ছে না। আরেক আয়োজক মিশু বলে, আমাদের ইচ্ছেটাকে সব সময় প্রাধান্য দেয়া হয় না। এর জন্যে সামাজিক আর ধর্মীয় সীমাবদ্ধতাগুলো দায়ী।
আমরা শহরে থেকে যতটুকু স্বাধীনতা পাচ্ছি, মফস্বল বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা সেটাও পায় না। আবার সোমা আর মিতুর মুখে অন্য কথা। তাদের মতে, এখনকার বাবা মায়েদেরও চিন্তায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা ছেলে মেয়েদের বিভেদটা না দেখে সন্তানদের ভাল দিকটাকেই প্রাধান্য দেয়। এতে করে বাবা মায়েরা যেমন সুখী হয়, আমাদেরও তাদের প্রতি ভালোবাসা আর সম্মানবোধটা বেড়ে যায়। বেড়ানো শেষ করে অভিজ্ঞতা সমপর্কে শিক্ষার্থী লুবনা বলে এর আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাওয়া, নতুন অভিজ্ঞতা, অনেক কিছু জানা যায়। সব মিলিয়ে অন্য রকম একটা উপভোগ। যেটা হয়তো পরিবারের সাথে থাকলে সম্ভব হত না। আবার, পরিবারের সাথে বেড়ানোটাও বেশ আনন্দের। আনন্দে উত্ফুল্ল সব বেরিয়ে আসা বন্ধুদের চেহারায় তাকালে মনে হয়- সত্যিই যেন এক নতুন আনন্দের অভিযাত্রী ছিল তারা। প্রকৃতির একান্তে যাওয়ার আনন্দ। সব বাধা পেরিয়ে স্বাধীন হওয়ার আনন্দ।
