স্মরণ

সজল খালেদের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয়

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০৯
২০ মে ২০১৩ তারিখে এভারেস্ট জয়ের পর প্রত্যাবর্তনের পথে সজল খালেদ হারিয়ে যান। তাকে আর খুঁজে পায়নি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন। তার স্মৃতি আর অর্জনকে আকড়ে ধরে দিন কাটে স্বজনদের। স্বল্প দৈর্ঘ্য জীবনে সজলের কর্মব্যাপ্তি ছিল উল্লেখযোগ্য। এভারেস্টজয়ী, চিত্র-পরিচালক, লেখক ও সংগঠক ইত্যাদি নানা কাজে জড়িয়েছেন নিজেকে। কিন্তু তার একমাত্র ছেলে দুইবছরের সুস্মিত হোসেনের কাছে শুধুই তার বাবা। এইসবের কিছুই উপলব্ধি করতে পারে না সে। সে শুধু প্রতিদিনের বাবার সঙ্গ খোঁজে। খুঁজতে খুঁজতে বাবা ছাড়া জীবনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে ক্রমেই। তাই অতি অল্প সময়ে যে তরুণ দেশের জাতীয় সম্মানের জন্য জীবন দেয় তার পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্মরণসভায় বক্তারা। গত ১৫ নভেম্বর শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এভারেস্টজয়ী এই তরুণের অর্জনের উপর আলোচনা, ফিল্ম ও স্লাইড প্রদর্শনী নিয়ে স্মরণ সভার আয়োজন করে মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সজল খালেদ স্মরণ-সভা আহ্বায়ক ইনাম আল হক এর সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত এবং সংগীত-পরিচালক লাকী আখন্দ্। এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার ও এম এ মুহিত এবং সজল খালেদের সহকর্মী, স্বজন ও গুণগ্রাহী অন্যান্য ব্যক্তিত্ব আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সজল খালেদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রী তাহমীনা খান শৈলী সন্তান সুস্মিত হোসেনসহ নিহতের বড় বাই -বোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এভারেস্ট অভিযানের আগে সজল মুহম্মদ জাফর ইকবাল লিখিত একটি কিশোর-কাহিনি অবলম্বনে ‘কাজলের দিনরাত্রি’ নামে পূর্ণ-দৈর্ঘ্য চলচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। সজল খালেদ পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১৪টি পর্বত আরোহণের দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘এড ভিশ্চার্স’ লিখিত একটি বই অনুবাদ করেন। বেঙ্গল পাবলিকেশন্স লিমিটেড প্রকাশিত ‘পর্বতের নেশায় অদম্য প্রাণ’ শিরোনামে এই বইটি আলোচনা করেন কালি ও কলম এর সম্পাদক আবুল হাসনাত। বাংলাদেশে সজল খালেদের মতো সহস্র তরুণ বিকশিত হবে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তরা।