হ লি উ ড

কালো মানুষের অনুপ্রেরণা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:১১
২০০২ সালের ২৪ মার্চ। হলিউডের কোডাক থিয়েটারে (বর্তমানে ডলবি থিয়েটার) প্রথমবারের মতো বসেছে অস্কার অনুষ্ঠান। সময় গড়ানোর সাথে সাথে এক সময় এলো বছরের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর নাম ঘোষনার পালা। নড়েচড়ে বসলেন দর্শকরা। সেখানে মনোনয়ন পাওয়া পাঁচ অভিনেত্রীর মধ্যে একজন আবার আফ্রিকান-আমেরিকান, কৃষ্ণাঙ্গী। অস্কারের মতো এত বড় পুরস্কারের জন্য এক একজন আফ্রিকান আমেরিকান মনোনীত হওয়ায় অবাক অনেকেই। তাদের বিস্ময় আকাশ ছুঁলো যখন ঘোষণা এলো অস্কারের প্রায় ৮৩ বছরের ইতিহাসে প্রধান নারী শিল্পীর ভূমিকায় প্রথমবারের মতো অস্কার জিতলেন সেই কৃষ্ণাঙ্গীই। সময়ের বিবর্তনে সেই মেয়েটি এখন পরিণত হয়েছেন সকল কালো মানুষের অনুপ্রেরণায়। আকর্ষণীয় চেহারা, অপূর্ব দেহসৌষ্ঠব আর অভিনয় প্রতিভা এরই মধ্যে হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রীতে পরিণত করেছে তাকে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কারও কাছে তিনি ক্যাটওম্যান, আবার কেউ তাকে চেনেন জেমস সিরিজের বিখ্যাত ছবি ডাই অ্যানাদার ডে’র নায়িকা হিসেবে। হ্যা পাঠক, হ্যালি বেরির কথাই বলছি আমরা। ওহিও’র ক্লিভল্যান্ডে হাসপাতাল কর্মচারী জেরোম জেস বেরি এবং জুডিথ অ্যানের ঘরে ১৯৬৬ সালের ১৪ আগস্ট জন্ম হ্যালি বেরির। বাবার দিক থেকেই আফ্রিকান রক্ত পেয়েছিলেন হ্যালি। তবে খুব বেশী দিন বাবার স্নেহ পাওয়া হয়নি হ্যালির। মাত্র চার বছর বয়সে পিতা-মাতার বিচ্ছেদের পর বড় বোনের সাথে মায়ের কাছেই বেড়ে ওঠেন তিনি। বেডফোর্ড হাই স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর হ্যালি ভর্তি হন কুয়াহোজা কমিউনিটি কলেজে। এরই মধ্যে ’৮৫ সালের শুরুর দিকে কয়েকটি সুন্দরী প্রতিযোগীতায় অংশ নেন তিনি। পরবর্তী বছর মিস ইউএসএ প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন হ্যালি। সে বছরই প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান হিসেবে মিস ওয়ার্ল্ড এনট্রান্ট খেতাব পান তিনি। সুন্দরী প্রতিযোগিতা গুলোয় অল্প স্বল্প অভিনয়ের সূত্র ধরেই অভিনয়ের প্রতি মনোযোগী হতে শুরু করেন হ্যালি। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯’র শেষের দিকে অভিনয় করেন এবিসি টেলিভিশনের মিনি সিরিজ লিভিং ডলসএ। স্পাইক লি’র সিনেমায় মাদসাকক্ত এক তরুণীর ভূমিকায় ছোট্ট একটা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় হ্যারির হলিউড যাত্রা। সেটা ’৯১ সালের কথা। তবে অভিনেত্রী হিসেবে হ্যালিকে পরিচিতি এনে দেয় বিখ্যাত কমেডিয়ান এডি মারফির বিপরীতে করা বুমেরাং। এরপর টিভি সিরিজ কুইন, ফ্লিন্টস্টোন্স জনপ্রিয় করে তোলে তাকে। এরপর ১৯৯৯ সালে গায়িকা জোলা টেইলরের ভূমিকায় আত্মজৈবনিক চলচিত্র ইনট্রোডিউসিং ডরোথি ড্যানড্রিজ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গী হিসেবে সেরা অভিনেত্রীর তালিকায় অস্কার মনোনয়ন পান হ্যালি। সেবার পুরস্কার না পেলেও ইতিহাস গড়তে খুব বেশী সময় নেননি ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জননী এই তারকা। বিলি বব থর্নটনের বিপরীতে মনস্টার’স বল ছবিতে অসাধারন অভিনয় হ্যালিকে এনে দেয় বহুকাঙ্খিত অস্কার। শুধু তাই নয়, পুরস্কারটি সকল কৃষ্ণাঙ্গ নারীর উদ্দেশ্যে উত্সর্গ করে হ্যালি যে বক্তৃতা দেন, সেটিও স্থান করে নেয় অস্কার লাইব্রেরীতে। অস্কার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অনুপ্রেরনাদায়ক ভাষন হিসেবে এটি স্বীকৃত। মনস্টার’স বলের সাফল্যের পর জনপ্রিয় ঘরানার বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করেন হ্যালি। পিয়ার্স ব্রসনানের বিপরীতে বন্ড সিনেমা ডাই অ্যানাদার ডে, ব্রুস উইলিসের সঙ্গে পারফেক্ট স্ট্রেঞ্জার এবং সুপার হিরো সিনেমা এক্স-মেন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।