জিমেইলের যে সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের জানা দরকার

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ২০:৪৮

মোজাহেদুল ইসলাম

 

জিমেইলের প্রচলিত সব ধরনের ফিচারের বাইরেও জিমেইল ল্যাবের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় এবং চমকানোর মতো বিভিন্ন ধরনের ফিচার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনেক নতুন ফিচারই জিমেইল ল্যাবে দীর্ঘদিন ব্যবহূত হয়ে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনের পর যুক্ত হয় জিমেইলে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফিচারের পাশাপাশি এই ল্যাবে রয়েছে পাগলাটে ধরনের অনেক ফিচারও। এই লেখায় জিমেইল ল্যাবের বেশ কয়েকটি ফিচারের কথা এ লেখায় তুলে ধরা হলো

 

জিমেইল ল্যাবের ব্যবহার

জিমেইল ল্যাব ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে কোনো অপশন সক্রিয় করার প্রয়োজন নেই। জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ডানপাশের গিয়ার আইকনে ক্লিক করে যেতে হবে সেটিংস অপশনে। সেখান থেকে প্রবেশ করতে হবে ল্যাব মেন্যুতে। এখানেই তালিকা আকারে পাবেন নানা ধরনের পরীক্ষামূলক সব ফিচার। এসকল ফিচারের প্রতিটির ডান পাশেই পাবেন ‘Enable’ এবং ‘Disable’ রেডিও বাটন। যেকোনো ফিচারের ‘Enable’ বাটনটিতে ক্লিক করে ওপরের দিকে থাকা ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করলেই সক্রিয় হয়ে যাবে জিমেইল ল্যাবের ফিচারটি। একইভাবে কোনো ফিচারকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে হলে ‘Disable’ ক্লিক করে ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। কোনো ফিচার ব্যবহার করতে গিয়ে যদি গোলমাল করে ফেলেন এবং জিমেইল ল্যাবের সব ফিচারকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে জিমেইলের মূল ইনবক্সে ফেরত আসতে চান, তার উপায়ও রয়েছে। এর জন্য ওয়েব ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে https://mail.google.com/ mail/u/0/?labs=0 ওয়েব ঠিকানা লিখে প্রবেশ করলেই জিমেইল ল্যাবের সব ফিচার নিষ্ক্রিয় হয়ে প্রবেশ করতে পারবেন মূল জিমেইল ইনবক্সে।

 

আনডু সুবিধা

দরকারি ই-মেইলটি পাঠিয়ে দিয়েই হয়তো বুঝতে পেরেছেন কোনো একটা ভুল করে ফেলেছেন। এবার উপায়? এই উপায়টি করে দিতেই জিমেইল ল্যাবে যুক্ত হয়েছে ‘আনডু সেন্ড’ ফিচারটি। এই ফিচারটি চালু করলে আপনার নির্দিষ্ট করা ৫, ১০, ২০ বা ৩০ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত আপনি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন আপনার পাঠানো ই-মেইলটি। এই ফিচারটি চালু করা হলেই প্রতিবার জিমেইল থেকে ই-মেইল পাঠানোর পর ই-মেইল পাঠানোর বার্তার সাথে সাথে ‘undo’ অপশনটি হাজির হবে। এতে ক্লিক করলেই ই-মেইলটি আর পৌঁছাবে না প্রাপক বরাবর। ফলে ই-মেইলে কোনো ভুল থাকলে সেটি সংশোধন করে পুনরায় পাঠানোর সুযোগ পেয়ে যাবেন সহজেই।

 

ই-মেইলের পূর্ব-নির্ধারিত উত্তর

যাদের অনেক বেশি ই-মেইল প্রতিদিনই চালাচালি করতে হয় তাদের অনেক ক্ষেত্রেই একাধিক ই-মেইলের একই জবাব পাঠাতে হয়। মোবাইলের মেসেজের ক্ষেত্রে কিছু টেমপ্লেটের মাধ্যমে মেসেজের উত্তর পাঠানোর সুবিধা থাকলেও জিমেইলে সরাসরি এই সুযোগটি নেই। এই সীমাবদ্ধতাটি দূর করবে জিমেইল ল্যাবের ‘Canned Responses’ ফিচারটি। এই ফিচারটির মাধ্যমেও আগে থেকেই নির্ধারিত কিছু উত্তর পাঠাতে পারবেন একই ধরনের ই-মেইলের জন্য; প্রতিবার আলাদা আলাদা করে একই উত্তর লিখতে হবে না। এর জন্য জিমেইল ল্যাবে গিয়ে প্রথমেই ক্যানড রেসপন্স ফিচারটি সক্রিয় করে নিতে হবে। এরপর জিমেইলের কম্পোজ অপশনে গিয়ে ইমেইলের মূল বডিতে লিখতে হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি। এরপর ই-মেইল উইন্ডোর ডানপাশের নিচের দিককার অ্যারো চিহ্নতে ক্লিক করে ক্যানড রেসপন্স অপশনটি নির্বাচন করে দিতে হবে। সেখান থেকে ‘নিউ ক্যানড রেসপন্স’ নির্বাচন করে এই উত্তরটির একটি নাম দিয়ে সংরক্ষণ করে নিতে হবে।

 

প্রিভিউ প্যান

িঁজমেইল ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণত প্রতিটি ই-মেইলকে আলাদা আলাদা করে খুলতে হয়। সাধারণভাবে কোনো প্রিভিউ প্যান না থাকায় প্রতিদিন বেশি পরিমাণ ই-মেইল দেখতে হলে সময়ের ব্যয় হয় প্রচুর। এই ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকার জন্য ব্যবহার করতে পারেন জিমেইল ল্যাবের প্রিভিউ প্যান ফিচারটি। এরপর প্রিভিউ প্যান চালু রাখলে তা আনুভূমিক ও উলম্ব—দুইভাবেই দেখতে পারবেন। উলম্বভাবে প্রিভিউ প্যান সক্রিয় করলে ইনবক্সের বাম পাশে থাকবে ইনবক্সে থাকা ই-মেইলগুলোর তালিকা। আর তখন ই-মেইলগুলো স্ক্রল করে করেই ডান পাশে দেখতে পারবেন ই-মেইলগুলোর প্রিভিউ। আবার আনুভূমিকভাবে প্রিভিউ প্যান চালু করলে ওপরের অংশে থাকবে ই-মেইলের তালিকা, আর নিচের দিকে প্রতিটি ই-মেইলের প্রিভিউ চলে আসবে।

 

অটো-অ্যাডভান্স

যাদের প্রচুর ইমেইল নিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য প্রতিটি মেইল আলাদা করে খুলে নিয়ে সেটি নিয়ে কাজ করার পর নতুন মেইল খুলতে আবার ফিরতে হয় ইনবক্সে। এতে করে বেশ ভালো পরিমাণ সময় নষ্ট হয়ে যায় প্রতিদিন। অটো-অ্যাডভান্স ফিচারটি জিমেইল ল্যাব থেকে সক্রিয় করে নিলে কোনো মেইল নিয়ে কাজ শেষ করার পর তা ডিলিট করে দিলে বা আর্কাইভ করে রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরের বা আগের ই-মেইলে চলে যেতে পারবেন।

 

অ্যাপ সার্চ

জিমেইলের পাশাপাশি আপনি যদি নিয়মিত গুগল ডক এবং গুগল সাইটগুলো ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এই জিমেইল ল্যাবের এই ফিচারটি আপনার অনেক কাজকে সহজ করে দিতে পারে। এই ফিচারটি সক্রিয় করে নিলে জিমেইল থেকেই যেকোনো তথ্য সার্চ করলে তা জিমেইলের পাশাপাশি গুগল ডকস এবং গুগল সাইট থেকেও আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সার্চ করে দেখাবে। সার্চ রেজাল্টে শুরুতে জিমেইলের লিংকগুলো আসার পর নিচের দিকে দেখাবে বাকি দুইটি সাইটের সার্চ রেজাল্ট। ফলে গুগল সংক্রান্ত সব সার্চ জিমেইল থেকেই সেরে নিতে পারবেন।