রাজনৈতিক সংকটে কক্সবাজারে পর্যটক ব্যবসায় মন্দা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩০
গত প্রায় ১০ দিন দেশ হরতাল-অবরোধ মুক্ত থাকলেও কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে এর তেমন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কক্সবাজারে আসেনি উল্লেখযোগ্য কোন পর্যটক। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার-শনিবারও ছিল প্রায় পর্যটক শূন্য। ব্যবসায়ীরা এর জন্য রাজনৈতিক সংকটকে দায়ী করেছেন। কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহ হরতাল-অবরোধমুক্ত থাকলেও কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প আগের মতই ছিল স্থবির। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি। গত ২ দিনে কক্সবাজারে ১০ হাজার পর্যটকও বেড়াতে আসেনি। পর্যটক শূন্যতার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে চারটি জাহাজের পরিবর্তে মাত্র একটি জাহাজ চলাচল করছে, তাও অনিয়মিতভাবে। ঘটনার কথা স্বীকার করে কক্সবাজার সী-বীচ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, এবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কক্সবাজার ছিল পর্যটন শূন্য। হোটেল-মোটেলে ধারণ ক্ষমতার শতকরা ৫ ভাগের বেশি কক্ষ ভাড়া হয়নি। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান জানান, পর্যটক স্বল্পতার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে চারটি জাহাজের মধ্যে এখন মাত্র একটি জাহাজ চলাচল করছে। তিনি জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত শুক্রবার-শনিবারও মাত্র ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজটি সেন্টমার্টিনে আসা-যাওয়া করে। পর্যটন শিল্পে চলমান অস্থিরতার কারণে গত এক বছরে অন্তত ১০ হাজার কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। আরো প্রায় ৫ হাজার কর্মচারী চাকরিচ্যুত হওয়ার মুখে রয়েছে। কক্সবাজারের হোটেল কোয়ালিটি হোমের ম্যানেজার আবদুল আজিজ জানান, গত এক মাসে তার হোটেলে ৬৩ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার পর্যটন শিল্পের চলমান সংকটের জন্য দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করে আশা করেন, এ সংকট কেটে গেলে পর্যটন শিল্পেও সুদিন ফিরে আসবে।