দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য আসছে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুতের বড় পাঁচ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে নতুন এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত অন্যান্য প্রকল্পসহ বড় ১০ প্রকল্পে থাকছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে চলমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নই নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬ ভাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। সরকারের বৃহত্ ও অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো ‘ফার্স্ট ট্র্যাক’ তালিকায় রয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পুরোদমে চলছে পদ্মা সেতু ও এর রেল সংযোগ প্রকল্প এবং মেট্রো রেলের কাজ। এর মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ শেষ। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে এখনো অর্থ বরাদ্দ পায়নি। বাকিগুলো চলমান রয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুত্ কেন্দ্র : ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটিতে চলতি অর্থবছরে ১১ হাজার ৩১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নতুন অর্থবছরের তা বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এতে ক্রমপুঞ্জিভূত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আসছে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা।
পদ্মা সেতু : ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দ্রুত সেতুর কাজ এগিয়ে নিতে আগামী বছর প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে ১৭ হাজার ৯০৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। এরই মধ্যে সেতুর প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ দৃশ্যমান হয়েছে।
পদ্মা রেল : পদ্মার সড়ক সেতুতে রেললাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত শেষ করতে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে’ বরাদ্দও বাড়ছে আগামী অর্থবছরে। এ বছর প্রকল্পটিতে ৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও আসছে বছরের জন্য তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ২৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
মেট্রো রেল : রাজধানীর যানজট নিরসনে নেওয়া ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ বা এমআরটি-৬ নামে এ প্রকল্প ২০১৬ সালের জুনে উদ্বোধন করা হয়। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে এয়ারপোর্ট থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের কাজ শেষ করার কথা এ বছরের শেষে। তাই আগামী অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ তিনগুণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।
কর্ণফুলী টানেল : চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শহরের দুই অংশের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে দেশের প্রথম ট্যানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় কর্ণফুলীর তলদেশে। এজন্য গৃহীত ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রায় ৯ হাজার ৯৮০ কোটি ৪১ লাখ টাকার এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ১৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ থাকছে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মাতারবাড়ী বিদ্যুত্ কেন্দ্র : কয়লাভিক্তিক ‘মাতারবাড়ী ২–৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’ এ ব্যয় হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬৯৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগামী বছর বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকা করা হচ্ছে।
পায়রা বন্দর : পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা সুবিধাদির উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এতে চলতি এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৫৫২ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬১০ কোটি টাকা খরচ হওয়া এ প্রকল্পে আগামী বছরের জন্য থাকছে ৫০০ কোটি টাকা।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক এ প্রকল্পের মধ্যে এটি আরেকটি। জি-টু-জি ভিত্তিতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটিতে ৩০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪০০ কোটি বাড়িয়ে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭০৫ কোটি টাকা।
