গোদাগাড়ীতে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৩
মৌসুমের শুরুতেই রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘ডিলার সিন্ডিকেট’ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দরে রাসায়নিক সার বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, সরকার নির্ধারিত ইউরিয়া সারের মূল্যে প্রতি বস্তা ৮শ টাকা হলেও বাজার মনিটরিং না থাকায় ডিলাররা পূর্বের মূল্যে অর্থাত্ প্রতি বস্তা ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ বলছে, গোদাগাড়ীর বাজারে শুধু ডিএপি সারের সংকট রয়েছে। অন্যান্য রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং তা বাড়তি দামে বিক্রি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি টমেটো মৌসুম ও আসছে রবি মৌসুমকে সামনে রেখে গোদাগাড়ীতে রাসায়নিক সারের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সুযোগে কৃষকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা কয়েকগুণ বর্ধিত মূল্যে সার বিক্রি করছেন আইডিপ্রাপ্ত সারের ডিলাররা। সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রতি বস্তা ইউরিয়া (৫০ কেজি) ৮শ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ১শ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গোদাগাড়ীতে প্রতিবস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ৯শ-১ হাজার টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০-১ হাজার ৪৫০, ডিএপি ১ হাজার ৪শ-১ হাজার ৪৫০ এবং এমওপি ৮৫০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার দ্বিগ্রাম গ্রামের কৃষক আকবর আলী, কদমশহরের কৃষক এনামূল হক এবং চব্বিশনগরের কৃষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সারের জন্য ডিলারদের কাছে যাওয়া হলে কোন সারই নেই বলে প্রথমে অস্বীকার করা হচ্ছে। পরে বেশি দরে সার কিনতে আগ্রহী হলে ডিলাররাই তাদের মজুদকৃত সার অন্যস্থান থেকে সরবরাহ করছেন। এতে আর্থিকভাবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও লাভবান হচ্ছে ‘ডিলার সিন্ডিকেট’। অন্যদিকে ডিএপি সার আইডিপ্রাপ্ত ডিলারদের কাছে না পাওয়া গেলেও পাওয়া যাচ্ছে লাইসেন্সবিহীন কথিত সার ডিলারদের কাছে। এতে প্রকৃত মূল্যে সার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে রবি শষ্য উত্পাদন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিসিআইসি’র সার ডিলার উপজেলার চব্বিশনগর এলাকার মেসার্স কৃষি বিতানের স্বত্বাধিকারী আবু হোসেন পল্টু জানান, সারের জন্য বিএডিসি’র ডিলারদের অগ্রীম টাকা দেয়া হলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বিএডিসি সার ডিলার উপজেলার কদমশহর এলাকার মেসার্স রেজাউল এন্ড সন্স এর স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম জানান, টানা হরতালের কারণে পরিবহন সংকটে অনেক সময় সার আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে কিছু কিছু সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে কিছু দিনের মধ্যেই এ সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসার ড.এম সাইফুল আলম বলেন, ‘আমার জানামতে গোদাগাড়ীতে এখন ডিএপি সারের মজুদ নেই, একারণে ডিএপির পরিবর্তে কৃষকদের টিএসপি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’ তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিএপির পরিবর্তে টিএসপি দ্বিগুণ পরিমাণে ব্যবহার করেও ডিএপির মতো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বেশিদরে সার বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নিয়মিত মিটিং করা হচ্ছে।’ এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।