কবুতর বিক্রির টাকার জন্য খুন!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৩
নারায়ণগঞ্জে স্কুল ছাত্র আরাফাত রহমান সিয়াম (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পেছনে ছিল কবুতর বিক্রি নিয়ে পূর্ব বিরোধ। ওই বিরোধের জের ধরেই সিয়ামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত একজন পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছে। তার নাম আসলাম (২২)। সে নিজেও ওই কিলিং মিশনে ছিল। বিনিময়ে সে পেয়েছিল ৫ হাজার টাকা। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসলামকে হাজির করান হয়। মাসদাইর এলাকার মতিন মিয়ার ছেলে আসলাম ভ্যান গাড়িতে করে সবজি বিক্রি করে। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মঈনুর রহমান, ফতুল্লা মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, থানার ওসি আকতার হোসেন প্রমুখ। আসলাম জানান, প্রতিবেশী মেহেদী মন্ডলের সঙ্গে সিয়ামের সম্পর্ক ছিল। মাঝেমধ্যে মেহেদীর কাছ থেকে কবুতর কিনতো সিয়াম। এছাড়া প্রায় সময়েই সিয়ামের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিত মেহেদী মন্ডল। কিছুদিন ধরে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয় সিয়াম। এর জের ধরে সিয়ামের প্রতি ক্ষোভ বাড়ে মেহেদীর। পরে মেহেদী নিজেই সিয়ামকে খুনের পরিকল্পনা করে। এজন্য এলাকার ভ্যান চালক আসলামকে ১০ হাজার টাকা ও গার্মেন্ট শ্রমিক হালিমকে ২ হাজার টাকায় ভাড়া করে সে। এর মধ্যে আসলামকে ৫ হাজার টাকা ও হালিমকে ২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় কবুতর কেনার কথা বলে সিয়ামকে ডেকে নেয়া হয় মেহেদীর বাড়িতে। মেহেদীর বাড়ির পাশের কবুতরের খোপের নিচে নিয়ে আগে থেকে সেখানে থাকা আসলাম আর হালিম সিয়ামকে চেপে ধরে। পরে মেহেদী সিয়ামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যটি মেহেদীর মা মেরিনা বেগম দেখে ফেলেন। পরে মেরিনা বেগমের পরামর্শে সিয়ামের লাশলুঙ্গী দিয়ে পেচিয়ে আমের ঝুড়িতে ভরে বস্তাবন্দি করা হয়। এরপর লাশ আসলামের ভ্যান গাড়িতে করে মুন্সীগঞ্জের মোক্তারপুরে শান্তিনগর এলাকায় নিয়ে ফেলে দেয়া হয়। আসলামকে গ্রেফতারের পর তার বাড়ি থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়। পশ্চিম মাসদাইর এলাকার গার্মেন্টের স্টক লট ব্যবসায়ী মোস্তফা বেপারীর ছেলে সিয়াম গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোস্তফা বাদী হয়ে মেহেদী মন্ডলকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।