আরো ৩০টি যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গত ১৮ দিনে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ২২টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি বলেন, গত তিন মাস ধরে এই কারখানাগুলো টিকে থাকার জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু কোনোভাবেই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। এছাড়া আরো ত্রিশটি কারখানা রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। যে কোনো সময় সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত তরুণদের জন্য বিনিয়োগ শীর্ষক এক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কারখানা বন্ধ হওয়ার জন্য বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার চাইতে বেশি কারখানা স্থাপন হওয়াকে অন্যতম কারণ বলে অভিহিত করে। তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্রাতিরিক্ত ক্যাপাসিটি (কারখানা) হয়ে গেছে। একেকজন এক শ থেকে দুই শ লাইনের কারখানা বানিয়ে বসে আছেন। ফলে লোকসান কমানোর জন্য ক্রয়াদেশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে নিজেরাই কম মূল্যে পোশাকের অর্ডার নেন। বিদেশি ক্রেতারা যে দামে ক্রয়াদেশ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেন, এখানে এসে দেখেন তার চাইতে কম মূল্যে অর্ডার নেওয়ার জন্য রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতা করছেন। অহরহ একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছি। এটি এ খাতের জন্য অশনি সংকেত।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি ঈগের আগে শতাধিক কারখানা বেতন-বোনাস দিতে পারবে না। তবে তিনি জোর দিয়েই বলেন, কোনো শ্রমিক ঈদের আগে পাওনা না পেয়ে অভুক্ত অবস্থায় বাড়ি যাবে, তা দেখতে চাই না। সম্প্রতি এরকম একটি কারখানার সমস্যা সমাধানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই কারখানার মালিককে তিনদিন আটকে রেখে তার কারখানার মেশিনপত্র বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যে সব কারখানা ব্যবসায়ে টিকতে পারবে না, তাদের জন্য ‘এক্সিট পলিসি’ (ব্যবসা বন্ধ করার জন্য সরকারি নীতিমালা) দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, অপেক্ষাকৃত ছোট কারখানার জন্য এ ধরনের নীতিমালা করা খুবই জরুরি।
।
