তরুণদের উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত বাজেট না হলে সংকট তৈরি হতে পারে

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ২১:১৮

ইআরএফ ও অ্যাকশন একশনএইডের সংলাপ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে যে ধরনের বাজেট বরাদ্দ হয়, তা প্রয়োজনের চাইতে কম। অন্যদিকে সঠিক তদারকি ও সমন্বয়ের অভাবে ওই বরাদ্দও সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব কারণে উদ্ভাবন ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের ঘাটতিও  প্রকট। এক্ষেত্রে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না হলে দেশের এক তৃতীয়াংশ তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। একশনএইড বাংলাদেশ ‘যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ : বাজেটে প্রতিফলন কী’ শীর্ষক এক সংলপে বক্তারা এ মতামত দিয়েছেন। রাজধানীর পল্টনে ইআরএ কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংলাপে সরকারি বেসরকারি খাতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ এতে অংশ নেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও একশনএইড যৌথভাবে ওই সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তরুণদের বাজেট নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্ল্যানিং এডিটর আসজাদুল কিবরিয়া।

বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব এবং বিদ্যমান বরাদ্দকৃত বাজেটে যুব উন্নয়নমূলক খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের উন্নয়নে যুব শক্তিতে সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। তা না হলে দেশ ও সমাজ একটি স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবে।  যেটি হবে জাতীয় সংকট।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরী বলেন, এই বিনিয়োগ দুরাবস্থা আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগ না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা খুব খারাপ পরিস্থিতিতে পড়বো। তিনি বলেন, সামগ্রিক বাজেট কাঠামোতে তরুণদের যুক্ত করা হয় না। আবার তাদের সংগঠিত হয়ে বাজেটে কথা বলার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে অগ্রসর হওয়া চতুর্থ শিল্প বিপ­বেও পিছিয়ে পড়ছে তরুণরা। পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি হচ্ছে না। ফলে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যত সৃষ্টি হচ্ছে তরুণদের সামনে।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোথাও তাদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু তাদের সৃজনশীলতার ঘাটতি নেই। আমরা তা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছি না।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর পরিচালক ড. তাহমিনা আখতার, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।