শরীয়তপুরে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৫

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৭
শরীয়তপুর আন্তঃজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক ফরিদুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক এমারত হোসেনসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় সদর হাসপাতালের সামনে ‘হাওলাদার ক্লিনিকে’ অগ্নিসংযোগ ও শহরের ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। আন্তঃজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এলিম পাহাড় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সদর থানা সূত্র জানায়, রবিবার আন্তঃজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদারের একটি মোটরসাইকেল পুলিশ আটক করে। এর প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটের চেষ্টা করে ফারুক চৌকিদার। বিষয়টির বিরোধিতা করে এলিম পাহাড়। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার জেরে ফারুক চৌকিদার সমর্থকরা এলিম পাহাড়কে লাঞ্ছিত করে। সোমবার একটি হত্যা মামলায় ফারুক ও তার সমর্থকরা আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসটার্মিনালে ফেরার পথে শহরের বটতলা এলাকায় কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে। খবর পেয়ে এলিম সমর্থকরা শহরের উত্তর বাজারে ফারুক চৌকিদারের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফারুক চৌকিদার, তার ভাই কবির চৌকিদার ও সাদ্দাম চৌকিদারকে কুপিয়ে আহত করে। শহরের হাসপাতালের সামন হতে কোটাপাড়া পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পরে। প্রায় দেড় হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শরীয়তপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক এমারত হোসেন, রবি ফোন-এর বিক্রয় প্রতিনিধি অমিত লোধকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যদের চিকিত্সার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালের সামনে ক্লিনিকে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়। ক্লিনিকে থাকা শতাধিক রোগীকে বের করে দেয়। ক্লিনিকে হামলার সময় জাজিরার নাওডোবা গ্রামের রোকসানা বেগম নামে গৃহবধুর সিজার চলছিল। নবজাতকসহ ওই প্রসূতিকে ক্লিনিক থেকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষের পর শরীয়তপুরের সকল রুটে বাসচলাচল বন্ধ। সদর থানার ওসি আবুল কাশেম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে কাদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি করতে হয়েছে।