প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সুশীল সমাজের একটি অংশ ক্ষমতা চায়, কিন্তু তারা কখনো নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না। শুধু সেনাবাহিনীর সহায়তায় তারা ক্ষমতায় আসতে পারে। শুধু তারাই বিভিন্ন সময় সেনা হস্তক্ষেপের কথা বলছেন। কলকাতার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেছেন। রবিবার এই সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়।
সাক্ষাত্কারে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে সেনা হস্তাক্ষেপের সম্ভাবনা, তার রাজনৈতিক কার্যক্রম, হরতালের রাজনীতি, বিরোধী দলের নেতাদের আটকসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছেন সেনা শাসকরা। এরপর ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শাসন করেছে সেনা-সমর্থিত সরকার। বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে যে, সেনাবাহিনী এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, সফল অভ্যুত্থান ঘটাতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছতে হবে। কিন্তু গণভবনে যে প্রহরীরা রয়েছেন তারা শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত। তারা কাউকে গণভবনে প্রবেশ করতে দেবেন না। এছাড়া যেকোন সামরিক অভ্যুত্থানে ব্যাপক রক্তপাত হয়। আমি মনে করি এমন কোন সেনা কর্মকর্তার দল নেই যারা এমন ঝুঁকি নেবেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কাছে শেখ হাসিনা ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না। তাদের ক্ষমতা পেতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে যেতে হবে। সেনা অভ্যুত্থান এদেশ কখনো সহ্য করবে না। আমাদের সরকারের সফলতা এত বেশি যে, জনগণ বৈধ একটি সরকারের বিপরীতে কোন হস্তক্ষেপ সমর্থন করবে না। তাছাড়া বাংলাদেশে এমন কোন জেনারেল বা সেনা কর্মকর্তা নেই যার বা যাদের সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর আগ্রহ আছে।
হরতালের রাজনীতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হরতাল ভালো কিছু নয়। জনগণ হরতাল সমর্থন করে না। জনগণ তো আসেইনি বিএনপি নেতারাও হরতাল সফল করতে রাস্তায় নামেননি। তারা শুধু জনগণকে আতঙ্কিত করতে ও দেশ অচল করতে চাইছে। এছাড়া হরতাল দেয়ার দরকার কি? আমরা ৬ হাজার স্থানীয় নির্বাচন করেছি। সবগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির মেয়াদে এটা কখনো হয়নি।
বিরোধী দলের পাঁচ নেতাকে আটক ও সরকার ভিন্ন মতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ উঠছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর জন্য বিরোধী দল প্রথম আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়েছে। এর পর তারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণকে আতঙ্কিত করতে চাইছে। জনগণকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং সরকার তাই করেছে। কিছু বিএনপি নেতা এসব হামলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন ও অর্থায়ন করেছেন এমন তথ্য পাওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়েছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সজীব জয় বলেন, গত সাড়ে চার বছরে আমরা জনসংযোগ করিনি। তবে এ সময় আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক জনসংযোগ হয়েছে। কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রায় সমান সমান ছিলো। জুলাই থেকে আমি প্রচারণা শুরু করি। ইতিবাচক প্রচারণা আমাদের সহায়তা করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জরিপে আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ বিএনপির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। শিগগিরই আমাদের বিলবোর্ড প্রচারণা শুরু হবে।
ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে তিনি (বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া) তার ছেলের (তারেক রহমান) হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তর করবেন। সাক্ষাত্কারে জয় নিজেকে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমি কখনোই সরাসরি রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নেইনি। বরং চেয়েছি পেছনে থেকে দেশ ও সরকারকে সহায়তা করতে। কিন্তু রাহুল গান্ধী রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ দিক থেকে তিনি আমার চেয়ে অনেক সাহসী।
