বগুড়ায় নিজের দুই শিশু কন্যাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক মা। গতকাল রবিবার বিকেলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে শহরতলীর লতিফপুর এলাকায়। নিহত দুই শিশু হচ্ছে ফাহমিদা ইসলাম উপমা (৭) এবং তাসনিম ইসলাম(৫)। আহত মা ছালমা পারভিনকে পুলিশ হেফাজতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই মেয়েকে হারিয়ে তাদের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম এখন পাগলপ্রায়। স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পুলিশ তাদের বাসা থেকে ছালমার লেখা দুটি চিঠি উদ্ধার করেছে।
নিহত উপমা বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল এণ্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীতে পড়তো। ছোট বোন তাসনিম বাড়িতেই লেখাপড়া শুরু করেছিলো। বগুড়া শহরের লতিফপুর মধ্যপাড়ায় ভাড়ার বাসায় থাকতো তারা। ফরিদুল ইসলাম সিটি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির বগুড়া রাজাবাজার শাখায় কর্মরত।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায় , সিরাজগঞ্জের কাজিপুর এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম লতিফপুর এলাকার জনৈক নুরুল ইসলামের বাসায় প্রায় ৫ বছর যাবত ভাড়া থাকেন। প্রতিদিনের মতো তিনি গতকাল সকালে কর্মস্থলে চলে যান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার স্ত্রী ছালমা শহরতলীর বনানীতে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে ছালমা নিজেই লোকজনকে তার সন্তানদের হত্যার কথা জানালে স্বামী ফরিদুলকে খবর দেয়া হয় । তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে বাথরুমে তার দুই কন্যার গলায় লাইলনের রশি পেচানো অবস্থায় নিস্তেজ দেহ দেখতে পান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুদের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ লাশ দুটি শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ফরিদুল দাবি করেছেন, তার স্ত্রী মানসিক রোগী ছিলেন। তার চিকিত্সা চলছে। রবিবার সকালে বড় মেয়ে স্কুলে লেখাপড়া করছে না অভিযোগ করে তার স্ত্রী মেয়েকে মারপিট করে। এসময় তিনি স্ত্রীকে বাচ্চাদের মারপিটে না করার জন্য বলে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেলে তিনি বাড়ি গিয়ে দুই মেয়েকে একটি টয়লেটে বালতির ভেতরে মাথা চুবানো অবস্থায় দেখেন। এরপর চিত্কার শুরু করলে আশপাশের লোকজন সেখানে পৌঁছে। তখনো মেয়েদের গলায় চিকন রশি পেঁচানো ছিলো। সেই রশি কেটে তিনি মেয়েদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান।
বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার(এ-সার্কেল) নাজির আহমেদ খাঁন জানান, তাদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি খাতায় ছালমার লেখা দুটি চিঠি পাওয়া যায়। শিশুদের অনুশীলন খাতার দুই পাতায় লেখা পৃথক দুই চিঠিতেই নিজেকে মানসিক রোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চিঠি লেখার বিষয়টি চিকিত্সাধীন ছালমা স্বীকার করেছেন বলে সহকারী পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
চিঠিতে যা রয়েছে :চিঠি দুটির একটিতে ছালমা তার মায়ের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘মা ,আমার অসুখ বেশি । আমি তোমাকে জানাইনি। আমার আর এ যন্ত্রণা সহ্য করতে পারি নাই। তাই আমি দুনিয়া থেকে বিদায় নিলাম। ইতি ছালমা।’
স্থানীয় থানার ওসি’র উদ্দেশ্যে অপর চিঠিতে তিনি লিখেছেন ‘মাননীয় অছি সাহেব, আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্বামী ফরিদুল ইসলাম দায়ী নয় । আমি একজন মানষিক রোগী । আমার অসুখের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলাম । ইতি ছালমা।’
